২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের দখলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
তথ্য খোঁজা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণ মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে ‘এআই জাতি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। জাতীয় কৃত্রিম ব...

তথ্য খোঁজা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণ মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে ‘এআই জাতি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০ এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে এআইয়ের ব্যবহার ও উন্নয়ন বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায় প্রযুক্তিটির ব্যাপক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের মাধ্যমে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ করা এবং বৈশ্বিক এআই সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়াকে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে এআই সংশ্লিষ্ট ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জীবনে এর সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে পারে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক সরকারি প্রশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই একটি প্রাথমিক উদাহরণ হচ্ছে ‘মাইগভ মালয়েশিয়া’। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে। ১৯টি সরকারি সংস্থার ৫২টি সেবা এতে যুক্ত রয়েছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে মাইজেপিজে, মাইসেজাহটেরা, প্রাইসক্যাচার, পোর্টাল ম্যানফাত, জনগণের নগদ সহায়তা-সংক্রান্ত সেবা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা।

এখন মাইগভ প্ল্যাটফর্মে ‘এজেন্টিক এআই’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। প্রচলিত চ্যাটবটের তুলনায় এ ধরনের এআই ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে সংশ্লিষ্ট সেবা শনাক্ত করতে পারে এবং অনুমোদিত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করতেও সহায়তা করতে পারে। সরকারের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী পুলিশের জরিমানার তথ্য যাচাই করার পর সরাসরি অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় যেতে পারবেন।

তবে এই ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং মানুষের তদারকি সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি বিভিন্ন সেবায় এরই মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মাইজেপিজে- ড্রাইভিং ও যানবাহন-সংক্রান্ত সেবা, মাইসেজাহটেরা- স্বাস্থ্যসেবা, প্রাইসক্যাচার- পণ্যের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য, পোর্টাল ম্যানফাত- সরকারি সহায়তার তথ্য, জনগণের নগদ সহায়তা কর্মসূচি, মাইএসপিআর সেমাক- নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য, অভিবাসন- পাসপোর্ট ও অভিবাসনসেবা, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সেবা ও ফলাফল।

ডিজিটাল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৯টি সরকারি সংস্থা এ উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতিটি সংস্থার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

ডিজিটালমন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও মালয়েশিয়ার এআই উদ্যোগকে ‘জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সব পক্ষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে চাকরির বাজারে। ২০৩০ সালের মধ্যে এআই সংশ্লিষ্ট ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও কোন পেশায় কতটি চাকরি সৃষ্টি হবে, তার বিস্তারিত হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ট্যালেন্টকর্পের গবেষণায় ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেশার মধ্যে এআই প্রকৌশলী, এআই ও মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন প্রকৌশলী, এআই সমন্বয় প্রকৌশলী, তথ্যবিজ্ঞানী, তথ্য প্রকৌশলী, এআই নিরীক্ষক এবং এআই নীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার কথা উঠে এসেছে।

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, মহাকাশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ, উৎপাদন, বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং খুচরা ব্যবসাসহ ১০টি খাতের ৯৪৯টি পেশা নিয়ে ওই গবেষণা করা হয়েছে।

সরকারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ‘মালয়েশিয়া ডিজিটাল ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৭ লাখ কর্মীকে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। এজন্য ‘জেলাজাহ এআই মাইমাহির’-এর মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এআই কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে দেবে এমন আশঙ্কা থাকলেও সরকার বলছে, লক্ষ্য শুধু মানুষের জায়গায় যন্ত্র বসানো নয়। বরং প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মীদের নতুন দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা।

ট্যালেন্টকর্প সতর্ক করেছে, পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম জোরদার না করা হলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মালয়েশীয় কর্মী উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারেন।

এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ব্যবহারিক এআই প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। সরকারের বার্তাটি মূলত ‘এআই আপনার চাকরি নিয়ে নেবে’ এমন নয়; বরং ‘আপনার চাকরির ধরন বদলাতে পারে, তাই এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা অর্জন করুন।’ এ লক্ষ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটালভাবে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার এরই মধ্যে ‘রাকইয়াত ডিজিটাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ডিজিটাল ও এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর আওতায় সৃজনশীল এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স রয়েছে।

এছাড়া ‘এআই উনতুক রাকইয়াত’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১ লাখ মালয়েশীয় তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে চালু হয়েছে।

নির্ধারিত সব মডিউল সফলভাবে শেষ ও পাস করা অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচিত এআই অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যারের একটি প্যাকেজে তিন মাসের বিনামূল্যের সাবস্ক্রিপশন পাবেন।

সরকারি সেবা ও চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকদের সহায়তা, কৃষিতে জমি ও ফসল পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়মিত কাজ সহজ করার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

তবে প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি এআইয়ের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ২৮ জুলাই ২০২৬ প্রতিষ্ঠিত ‘এআই মালয়েশিয়া বেরহাদ’ দেশটির জাতীয় এআই সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এ সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এআই নীতি প্রণয়ন, জাতীয় এআই কর্মসূচি বাস্তবায়ন, এআই ব্যবস্থাপনা ও তদারকি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ‘মালয়েশিয়া এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ পরিচালনা।

যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, এআই গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নৈতিকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া ‘এআই জাতি’ হয়ে উঠলে সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা কোনো নতুন সরকারি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে এমন নয়। বরং এর অর্থ হলো, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হবে।

সরকারি সেবা গ্রহণ, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে।

অর্থাৎ মালয়েশিয়ার ‘এআই জাতি’ হওয়ার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ নয়; বরং এমন একটি সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ এআইয়ের সঙ্গে কাজ করতে, শিখতে এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

এমআরএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/probash/news/1156239
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World