আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬...

আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, অথচ বন্ধ করলে এটি আবার একটি পকেটসাইজ ফোন।

খুললেই বদলে যাবে ফোনের চেহারা

আইফোন ডুওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর ফোল্ডেবল ডিজাইন। খোলা অবস্থায় রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। অ্যাপল বলছে, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। আর ফোনটি ভাঁজ করলে সামনে পাওয়া যাবে ৫.৪ ইঞ্চির কভার স্ক্রিন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা কাজের সময় বড় স্ক্রিন পাওয়া যাবে।

শুধু বড় স্ক্রিন নয়, কাজেও সুবিধা

ডুওর বড় ডিসপ্লের আসল সুবিধা পাওয়া যাবে মাল্টিটাস্কিংয়ে। একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা বড় স্ক্রিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো হতে পারে। অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে, ফলে নোট নেওয়া বা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও ফোনটি অন্য আইফোনের তুলনায় আলাদা।

ক্যামেরাতেও রয়েছে নতুনত্ব

পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল-কোয়ালিটি 2x টেলিফোটো সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা ফ্রেমে থাকা ব্যক্তিদের অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিউ সামঞ্জস্য করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, ডুও-প্রিভিউয়ের মাধ্যমে ফোনের বাইরের ডিসপ্লেতেই ছবির লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময়ও ফ্রেম ঠিকভাবে দেখা সম্ভব।

শক্তির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই

ফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুও আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে।

ব্যাটারির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা। ভেতরে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, ভেতরের বড় স্ক্রিনে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং বাইরের স্ক্রিনে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যেতে পারে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ ওয়্যারলেস চার্জারেও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে।

তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। এর ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? সত্যি বলতে, শুধু ফোন করার জন্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য আইফোন ডুও কেনার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। একই কাজ অনেক কম দামের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও করা সম্ভব। কিন্তু যারা ফোল্ডেবল ফোনের নতুন অভিজ্ঞতা, বড় স্ক্রিনে কাজ, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেম সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের কাছে ডুও-র আকর্ষণ আলাদা।

আর সবচেয়ে বড় কারণ? এত দিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই দেখা যেত ফোল্ডেবল আইফোন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে অ্যাপল। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তি সবার আগে ব্যবহার করতে চান এমন ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকার এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বড় আকর্ষণ।

কেএসকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/technology/article/1156246
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Business