ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ড্রোন হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। এর ফলে দেশটির তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্...

ড্রোন হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। এর ফলে দেশটির তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এর অবস্থা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

পাম্প স্টেশনে আগুন

ঘটনার বিষয়ে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পাইপলাইনের পাশে থাকা কয়েকটি পাম্প স্টেশনও হামলার শিকার হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে পাম্প স্টেশনগুলোতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

শুক্রবার তোলা একটি স্যাটেলাইট ছবিতে একটি পাম্প স্টেশনে ব্যাপক আগুনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার তোলা আরেকটি ছবিতে অন্য একটি পাম্প স্টেশনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠছিল।

তবে পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার দাবি

হামলার জন্য কারা দায়ী, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরাক থেকে উড়ে আসা ড্রোন দিয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে।

পরে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ইরাক থেকে আসা কয়েকটি ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে।

সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

তেল সরবরাহে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় এই হামলা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক সৌদি আরবের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন

ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বড় ধরনের বাধা তৈরি করার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ট্যাংকারের বদলে এই পাইপলাইন দিয়ে ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো হচ্ছে।

ফলে পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথেও চাপ তৈরি হতে পারে।

লোহিত সাগর নিয়েও শঙ্কা

ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির পথও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।

ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির লোহিত সাগরভিত্তিক বিকল্প পথ নিয়েও নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মেরামতে কত সময় লাগবে?

পাইপলাইনটি কবে আবার চালু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শুধু পাম্প স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে মেরামতের কাজ তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হলে মেরামতে বেশি সময় লাগতে পারে।

এদিকে সৌদি আরব গত মাসে ওপেককে জানিয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সূত্র: সিএনএন
কেএএ/

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1156289
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World