যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে?
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন।
একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা, অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব হুতিদের নিয়ন্ত্রণ—দুই দিক থেকেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি চাপের মুখে পড়েছে।
এ অবস্থায় বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি এবার সরাসরি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে?
সৌদির জরুরি আবেদন
হুথিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুবার ফোনে কথা বলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সাড়া দেননি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওয়াশিংটন সৌদিকে পুরোপুরি একা ছেড়ে দিয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার কথা জানা গেছে।
অর্থাৎ সৌদির পাশে থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে এই মুহূর্তে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব
বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই সংকীর্ণ প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কারণ পারস্য উপসাগর এড়িয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য লোহিত সাগর দিয়ে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে।
পাইপলাইনও বন্ধ
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে এই পাইপলাইন সৌদি তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রগতি একই সময়ে ঘটায় সৌদি তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন সরাসরি হামলায় যাচ্ছে না
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সামনে এখন বড় দ্বিধা। সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ।
কিন্তু হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ইয়েমেন, লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগর—তিনটি ফ্রন্টেই উত্তেজনা বাড়তে পারে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সৌদিকে গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা দিলেও সরাসরি হামলায় যেতে চাইছে না বলে প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তেলের বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের
চাপ আরও বাড়তে পারে।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় দেশটির রপ্তানিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।



