জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে মামলা

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের একটি মন্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) তাদের ‘রিমিগ্রেশন’ নীতিকে ‘জাতিগত নিধন’-এর সঙ্গে তুলনা করায় মের্জের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্...

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের একটি মন্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) তাদের ‘রিমিগ্রেশন’ নীতিকে ‘জাতিগত নিধন’-এর সঙ্গে তুলনা করায় মের্জের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

গত বুধবার জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের সময় এএফডির সমালোচনা করেন মের্জ। তিনি বলেন, এএফডির ‘রিমিগ্রেশন’ নীতির মাধ্যমে বংশপরিচয় বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে মানুষকে জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের নীতি ‘জাতিগত নিধনের’ সমান।

মের্জ আরও বলেন, এএফডি বড় পরিসরে অভিবাসীদের জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার প্রচার চালাচ্ছে। জার্মানিতে কাজ করা লাখ লাখ অভিবাসী দেশটির অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব মানুষ জার্মানি ছেড়ে গেলে দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হতে পারে। এতে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র ও রেস্তোরাঁর মতো অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।

মের্জের এ বক্তব্যের পর এএফডির পার্লামেন্টারি গ্রুপের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি স্টেফান ব্রান্ডনার তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এএফডির হয়ে জার্মান পার্লামেন্টে দলের কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্রান্ডনার বলেন, এভাবে এএফডির নীতিকে ‘জাতিগত নিধন’-এর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। এএফডি জার্মানির সংবিধান মেনে রাজনীতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পায় এএফডি। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) ভোট কমেছে। ২০২১ সালে দলটি ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার তা কমে ১৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।

এএফডির এ ফলকে জার্মানির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থি একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এএফডির নেতারা এই ফলকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছেন।

এএফডি এখন শুধু রাজ্য পর্যায়ে নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে চায় দলটি। স্যাক্সনি-আনহাল্টের জয়কে সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে তারা।

অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য এএফডি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। দলটি ‘রিমিগ্রেশন’ নীতির মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ও বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত বহিষ্কারের পক্ষে। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনি ইশতেহারেও এএফডি এ নীতির কথা বলেছে। দলটি প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ও বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কারের গতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমআরএইচ/কেএএ/

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1156447
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Business