কোকোর নামে সারা দেশে টি-২০, খেলবেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রিকেটাররাও
জেলার গণ্ডি পেরিয়ে এবার বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রিকেটাররা। আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে তার নামে সারা দেশে আয়োজন করা হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা থাকা এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলার দল অংশ নেবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের পাশাপাশি ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা অঞ্চল ধরে মোট ১০টি বিভাগীয় পর্ব হবে। প্রতিটি অঞ্চলের অধীনে থাকা জেলার দলগুলো সেখানে খেলবে। এরপর ১০ অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে ঢাকায় হবে কেন্দ্রীয় পর্ব। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল।
শনিবার মিরপুরে টুর্নামেন্টটির পরিকল্পনার কথা জানান বিসিবি পরিচালক সরফরাজ আহমেদ। তিনি বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকে দূরে থাকা ক্রিকেটারদের সামনে আসার পথ তৈরি হবে।
সরফরাজ বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কর্মকর্তারা এসেছেন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে। উনার নামে একটি টুর্নামেন্ট করতে চাচ্ছি। আগামী ডিসেম্বর মাসে হয়তো আমরা এই টুর্নামেন্টটা শুরু করব। এই টুর্নামেন্টটা ১০টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। ১০টি বিভাগের প্রত্যেকটি জেলা অংশগ্রহণ করবে। এরপর সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন দলগুলো নিয়ে চূড়ান্ত পর্ব, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হবে।’
কেবল নির্দিষ্ট কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটারদের জন্য টুর্নামেন্টটি সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। আয়োজকদের পরিকল্পনায় জাতীয় দল, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগসহ বিভিন্ন স্তরের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে খেলোয়াড়কে খেলার জন্য অ্যাভেইলেবল থাকতে হবে।
সরফরাজের মতে, প্রতিযোগিতাটির বড় উদ্দেশ্যই হলো সুযোগের বাইরে থাকা প্রতিভাদের মাঠে নামানো। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে হয়তো আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ক্রিকেটার আছে, যারা খেলার সুযোগ পায় না, তারা খেলতে পারবে এরকম একটি সুন্দর টুর্নামেন্টে।’
কোকোর স্মরণে এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেট আয়োজন করেছে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। ট্রাস্টের কোঅর্ডিনেটর জানান, গত ১২ বছর ধরে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সময়ে এসব আয়োজন করা হয়েছে। তবে করোনাকালে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এবার সেই বিচ্ছিন্ন আয়োজনগুলোকে একটি বড় কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরফরাজ আরো বলেন, ‘বিগত দিনেও বাংলাদেশে অনেক বিক্ষিপ্তভাবে এই টুর্নামেন্ট হয়েছে। কিন্তু এটাকে এক ছাতার নিচে আমরা চেষ্টা করছি।আরাফাত রহমান কোকো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টটা সারা বাংলাদেশের বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু করতে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া এবং সবার সহযোগিতায় আগামী ডিসেম্বর মাসে আমাদের প্ল্যান হচ্ছে এই টুর্নামেন্টকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার।’
ট্রাস্টের অধীনেই পুরো আয়োজন পরিচালিত হবে। বিসিবির টুর্নামেন্ট হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন ট্রাস্টের কোঅর্ডিনেটর, ‘এটা সম্পূর্ণ আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের আন্ডারে হবে। এটার আয়োজক হচ্ছে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।’
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি খেলা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি। ওই সময় কোন কোন মাঠ পাওয়া যাবে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে। প্রাইজমানি ও টুর্নামেন্টের অন্যান্য বিস্তারিত বিষয়ও পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সম্পৃক্ততাও দীর্ঘদিনের। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার সময়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ও খেলোয়াড় তৈরির কাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাইপলাইন তৈরিতেও তার অবদানের কথা সাম্প্রতিক সময়ে স্মরণ করেছে বিসিবি।
এবার সেই অবদানকে স্মরণ করেই দেশের ক্রিকেটারদের আরও বিস্তৃত পরিসরে যুক্ত করতে চায় ট্রাস্ট। কোঅর্ডিনেটরের ভাষায়, আয়োজনটির মূল লক্ষ্য কোকোর ক্রিকেট-সম্পৃক্ত স্মৃতিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একটা জায়গায় আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি একটি মাত্র কারণে-আরাফাত রহমান কোকো সাহেবের স্মৃতিটাকে সারা বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে, সারা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দিতে। তার ক্রিকেট ও খেলাধুলার প্রতি যে অবদান ছিল, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এটি একটি প্রয়াস।’
এসকেডি/এমএমআর