সপ্তাহের ব্যবধানে ফের চড়া খুলনার বাজার, বেড়েছে সবজি-মুরগি-ডিমের দাম
সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও পাল্টে গেছে খুলনার বাজারের চিত্র। ফের একদফা বেড়েছে সবজির দাম। মাছের দাম রয়েছে পূর্বের ন্যায় আর মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা। ডিমের দামও হালি প্রতি ২-৩ টাকা বেড়ে ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর এবং গল্লামারি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও পাকা মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহেও কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা কেজি দাম কম ছিলো।
অন্যদিকে, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং রসুন ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচকলা ২০-৩০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই-কাতল আকার ও মানভেদে ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, গুঁড়ো মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আর চাষের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৬০০-৭০০ টাকা, আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট ইলিশ, চিংড়ি, বাইন মাছ, দেশি কই কিংবা নদীর বেলে মাছের মতো মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে এক হাজার টাকারও বেশি। গলদা আর বাগদা চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি।
মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ৫-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায়। কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।
গল্লামারি বাজারের মাছ বিক্রেতা এমদাদ শেখ বলেন, খুলনার মাছ দেশের সব জায়গায় যায়। অন্যান্য জায়গায় মাছের দাম অনেক। সেখানে খুলনার বাজারে মাছের দাম তুলনামূলক কম আছে। চাষের মাছের দাম একটু বেশী। চিংড়ি মাছের দাম আমদানি কম থাকায় একটু বেশী। পরিবহন খরচ আর দ্রব্য মূল্যের বাড়তি দামের কারণে মূলত মাছের দাম বেড়েছে।
সবজি বিক্রেতা খবির মিয়া বলেন, এবারের মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। মাঝে দাম অনেকটা কমেছিলো। তবে এ সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম, কুমড়া আর পেঁপে জাতীয় সবজির দাম অনেকটা কমেছে। তবে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম আরও কমে যাবে।
বাজারে আসা ক্রেতা এস এম শামীম আহমেদ বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু মাছের দামে কোনো সামঞ্জস্যতা নেই। আর সবজির দাম বাড়ে কমে। এক সপ্তাহ দাম কম থাকলে পরের সপ্তাহে দাম হয় দ্বিগুণ। ডিমের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৮ টাকা হালি। যা কিছুদিন আগেও ৪০-৪২ টাকা ছিলো। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।
বাজারে আসা অন্য এক ক্রেতা অয়ন হালদার বলেন, আমি যশোরে চাকরি করি। খুলনায় ছুটিতে এসে বাজারে আসলাম। খুলনার বাজারে যশোরের থেকে মাছ ও সবজির দাম ৩০-৪০ টাকা কম বেশী মনে হলো। তবে খুলনার বাজারে টাটকা মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু দাম অনেক বেশী মনে হলো।
আরিফুর রহমান/এসজেডএইচ/জেআইএম


