দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন শেরপুর সদর হাসপাতাল, জেনারেটরও অচল
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কার্যক্রম চলেছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটরও চালু না হওয়ায় অন্ধকার ও ভ্যাপসা গরমের মধ্যে রোগী ও স্বজনরা নাকাল হয়ে পড়েন। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশু ও স্বজনরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হঠাৎ হাসপাতালের বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর জেনারেটরও বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয় হাসপাতালটিতে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রোগী ও স্বজনদের গরম ও অন্ধকারের মধ্যে সময় কাটাতে হয়।
মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আমিনুল ইসলাম রাজু বলেন, বিদ্যুৎ নেই প্রায় দুই ঘণ্টা হলো। এটা দেখারও কেউ নেই। আমি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, তিনি তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলবেন। এখানেই তাদের গল্প শেষ। ভ্যাপসা গরম ও অন্ধকারে রোগীর অসুস্থতা আরও বেড়ে গেছে।
সুরাইয়া জাহান রত্মা বলেন, আম্মাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। সন্ধ্যা থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ নেই, একেতো অন্ধকারে চোর- ছিনতাইকারীদের ভয়, আবার ভ্যাপসা গরমে শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। একটা জেলা সদর হাসপাতালের যদি এমন দশা হয়, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ছিল না, আমি মাত্রই জেনেছি। জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে বিদ্যুতের বিষয়টি যিনি দেখেন, আব্দুল হান্নানের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের বিদ্যুতের ফিউজ কেটে গেছে। আর জেনারেটরের অটো সিস্টেমে সমস্যা হওয়ায় সেটিও চলছে না। হান্নান বিষয়টি দেখছেন।
হাসপাতালে বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চালু হয়েছে।
হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়ে শেরপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রথমে বলেন, বিদ্যুৎ নেই, এ বিষয়ে আমরা জানি না। আমাদের হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কিছু জানাননি। আমার অফিসে যদি বিদ্যুৎ থাকে, তাহলে হাসপাতালেও বিদ্যুৎ থাকবে। এটা হাসপাতালের ইন্টারনাল সমস্যা। আমরা লোক পাঠিয়েছি।
সমাজকর্মী হুমায়ুন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ সময় হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জেনারেটর একসঙ্গে অচল থাকা দায়িত্বে গাফিলতির বহিঃপ্রকাশ। দায়িত্বশীলদের আরও দায়িত্ববান হতে হবে।
এ বিষয়ে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ নেই, বিষয়টি আমি জেনেছি। তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ এমরানের সঙ্গে কথা হয়েছে।
এফএ


