তামিম হত্যা: ৯ জনের অব্যাহতির পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত ৫ অক্টোবর

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবিসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আগামী ৫ অক্টোবর দিন ...

দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবিসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আগামী ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া জাগো নিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলার প্রতিপক্ষ আদালতে হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেননি। পরে পুনর্বিবেচনাকারী পক্ষের বক্তব্য শোনেন আদালত। শুনানি শেষে আগামী ৫ অক্টোবর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় হামলার শিকার হন তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তার বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে শেখ রবিউল আলম রবির মালিকানাধীন প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ একটি ভবন নির্মাণ করেছিল। ওই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে তামিমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, মামুনের শ্বশুর প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের কাছ থেকে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তামিমের পরিবার দাবি করে আসছিল, তাদের জমির ওপর নির্মিত ভবনের ওই ফ্ল্যাট তাদের প্রাপ্য। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে বিরোধ চলছিল।

মামলাটির তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৩ জনকে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়।

তবে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হয়ে গত ৮ জানুয়ারি বাদী সুলতান আহমেদ আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথভাবে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। বাদীপক্ষের নেওয়া কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যও হুবহু লিপিবদ্ধ না করে তদন্ত কর্মকর্তা নিজের মতো করে জবানবন্দি নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদনও করেন তামিমের বাবা।

গত ৩ মার্চ ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।

আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। সেই আবেদনের ওপরই রোববার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আগামী ৫ অক্টোবর সিদ্ধান্তের দিন ধার্য করা হলো।

তদন্ত শেষে দাখিল করা অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক ও মাহফুজার রহমানকে।

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়জন হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া আলম বলেন, তদন্ত শেষ করেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তার ভিত্তি এবং যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তার কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ ছিল না দাবি করে জাকারিয়া আলম বলেন, তিনি যখন মামলাটির তদন্ত করেন, তখন কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে ছিল না; অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে ছিল।

এমডিএএ/এসএনআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/law-courts/news/1156655
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World