একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চায় ভারত, এখন কেন উল্টো যাত্রা?
একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ভারতের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। অথচ কিছুদিন যেতে না যেতেই ঘটেছে উল্টো ঘটনা। বাংলাদেশে এখন ভারতের গুজরাট থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে।
গত ১২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে চিঠি দেন পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। চলতি বছরের দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
চিঠিতে ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তার অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
থমকে আছে ইলিশ রপ্তানি
বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল এলসিএস (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) ও আখাউড়া এলসিএস (ত্রিপুরা, ভারত) হয়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করে আসছেন তারা।
তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে তারা নিয়মিত আবেদন করে আসছেন। তবে তাতে কোনো ফল হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিতে শুরু করে। তবে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন ভারতীয় আমদানিকারকেরা।
‘দুই বাংলার বিশেষ সম্পর্ক’
ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা চিঠিতে দুই বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষা, খাদ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশেষ মিল রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মাছপ্রেমীরা তাদের প্রিয় খাবার ইলিশের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।
চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। আমদানিকারকেরা আশাপ্রকাশ করেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে। এতে ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উপকৃত হবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এবারও দুর্গাপূজায় ইলিশ চায় ভারত
‘ইলিশ পাওয়ার আশায় আছি’
চিঠির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগোনিউজকে বলেন, প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছরও যেন বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করা যায়, সে জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, এবারও বাংলাদেশ সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেবে।
এখন উল্টো পথে ইলিশ
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানানোর এক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকছে গুজরাটের ‘স্বাদ-গন্ধহীন’ ইলিশ। সাধারণত প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। রপ্তানির পরিবর্তে ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে।

পদ্মার নাকি গুজরাটের ইলিশ, চিনবেন যেভাবে
এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন গুজরাটি ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক। তিনি বলেন, গত মাসে তারা একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। সে সময় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান ও ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়। তবে তখন গুজরাটের ইলিশ পাঠানো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ আরও জানান, এ বছর গুজরাটে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। এ কারণে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাংলাদেশেও এবার পূজার আগে ইলিশ পাঠানো হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন গুজরাটি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশে হয়তো আরও গুজরাটি ইলিশ রপ্তানি করা হতে পারে।
ডিডি/কেএএ/




