সৌন্দর্যের দুনিয়ায় নতুন উন্মাদনা, কী এই ঝলমলে ফ্যাশন?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের ট্রেন্ড বদলাতে সময় লাগে না। একটি স্টাইল রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, আবার কিছুদিন পরেই জায়গা করে নিচ্ছে নতুন কোনো ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিউটি ও ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে এমনই এক ঝলমলে ট্রেন্ড-‘জেমম্যাক্সিং’। নাম শুনেই বোঝা যায়, এই ট্রেন্ডের ...

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের ট্রেন্ড বদলাতে সময় লাগে না। একটি স্টাইল রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, আবার কিছুদিন পরেই জায়গা করে নিচ্ছে নতুন কোনো ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিউটি ও ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে এমনই এক ঝলমলে ট্রেন্ড-‘জেমম্যাক্সিং’।

নাম শুনেই বোঝা যায়, এই ট্রেন্ডের মূল আকর্ষণ ঝিকিমিকি রত্ন, রাইনস্টোন, পুঁতি ও গ্লিটারের ব্যবহার। তবে এটি শুধু সাজের সঙ্গে কয়েকটি পাথর যোগ করার বিষয় নয়। বরং সাধারণ লুককে আরও নজরকাড়া, উজ্জ্বল এবং ব্যক্তিগত স্টাইলে রূপ দেওয়াই জেমম্যাক্সিংয়ের মূল ভাবনা।

সাধারণ সাজে যোগ হচ্ছে ঝলমলে ছোঁয়া

জেমম্যাক্সিংয়ে ছোট ছোট কৃত্রিম রত্ন, স্টোন, রাইনস্টোন বা ঝকঝকে পুঁতি ব্যবহার করে সাজে তৈরি করা হয় আলাদা মাত্রা। খুব সাধারণ মেকআপের সঙ্গেও কয়েকটি স্টোন যুক্ত করলেই লুকটি হয়ে উঠতে পারে পার্টি বা উৎসবের উপযোগী।

চোখের চারপাশে ছোট স্টোন বসানো, আইলাইনের পাশে রাইনস্টোন লাগানো কিংবা আইশ্যাডোর ওপর কয়েকটি ঝলমলে পাথর ব্যবহার-সবই এই ট্রেন্ডের অংশ। কেউ আবার কপাল, গালের পাশ বা চোখের কোণেও সূক্ষ্মভাবে স্টোন ব্যবহার করছেন। ফলে মেকআপে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ফিউচারিস্টিক ও গ্ল্যামারাস আবহ।

জেমম্যাক্সিংয়ে সাধারণ জিনিসও হয়ে উঠছে স্টাইল স্টেটমেন্টজেমম্যাক্সিংয়ে সাধারণ জিনিসও হয়ে উঠছে স্টাইল স্টেটমেন্ট

শুধু মেকআপেই সীমাবদ্ধ নয়

জেমম্যাক্সিংয়ের মজার দিক হলো, এর ব্যবহার শুধু মুখের সাজে আটকে নেই। পোশাক, চুলের অ্যাক্সেসরিজ, নখ, ব্যাগ এমনকি ফোনের কেসেও দেখা যাচ্ছে ঝকঝকে স্টোনের ব্যবহার।

কেউ চুলের খোঁপা বা বিনুনিতে ছোট রত্ন বসাচ্ছেন, কেউ আবার পোশাকের নির্দিষ্ট অংশে রাইনস্টোন যোগ করছেন। ফোনের কেস, মেকআপ বক্স বা দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসকেও ঝলমলে করে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নিজের চারপাশের ছোটখাটো জিনিসেও ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখার সুযোগ দিচ্ছে এই ট্রেন্ড।

চোখের সাজেই সবচেয়ে বেশি নজর

বিউটি ট্রেন্ড হিসেবে জেমম্যাক্সিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রয়োগ সম্ভবত চোখের সাজে। কারণ চোখের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি যোগ করলেই পুরো মেকআপের চরিত্র বদলে যায়।

কালো বা রঙিন আইলাইনারের পাশে ছোট স্টোন বসানো যেতে পারে। আবার চোখের ভেতরের কোণায় একটি বা দুটি পাথর ব্যবহার করেও তৈরি করা যায় সূক্ষ্ম ঝলক। যারা একটু বেশি সাহসী লুক পছন্দ করেন, তারা আইশ্যাডোর ওপর বিভিন্ন আকার ও রঙের স্টোন দিয়ে তৈরি করতে পারেন আলাদা নকশা। তবে অতিরিক্ত স্টোন ব্যবহার না করে পোশাক ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাণ ঠিক করলেই লুকটি আরও পরিশীলিত দেখাতে পারে।

ফিরছে ২০০০-এর দশকের ঝলমলে ফ্যাশন

জেমম্যাক্সিংয়ের জনপ্রিয়তার সঙ্গে অনেকেই নব্বই ও ২০০০-এর দশকের ফ্যাশনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেই সময়ে গ্লিটার, রাইনস্টোন, চকচকে পোশাক, ঝকঝকে হেয়ার অ্যাক্সেসরিজ এবং স্টেটমেন্ট জুয়েলারির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় ছিল।

বর্তমানে সেই পুরোনো নান্দনিকতাই নতুন প্রজন্মের হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে। পার্থক্য হলো, এবার পুরো সাজে ঝলমলে উপকরণ ব্যবহার করার বদলে অনেকেই ছোট ছোট জায়গায় স্টোন বসিয়ে তৈরি করছেন আধুনিক ও ব্যক্তিগত লুক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এত জনপ্রিয়?

জেমম্যাক্সিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও কম নয়। ক্যামেরার আলো পড়লে ছোট রাইনস্টোন বা কৃত্রিম রত্ন সহজেই ঝিলিক দেয়। ছবি ও ভিডিওতে এই ঝলমলে উপাদানগুলো খুব দ্রুত চোখে পড়ে। ফলে মেকআপের ছোট একটি পরিবর্তনও সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বেশ আকর্ষণীয় দেখায়।

বিশেষ করে পার্টি, কনসার্ট, উৎসব বা রাতের অনুষ্ঠানের লুকের সঙ্গে এই স্টাইল বেশ মানানসই হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যেও এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ

জেমম্যাক্সিংয়ের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো-এখানে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে বাঁধা থাকতে হয় না। কেউ খুব মিনিমালভাবে এক-দুটি স্টোন ব্যবহার করতে পারেন, আবার কেউ চোখ, চুল ও পোশাকে একসঙ্গে ঝলমলে উপাদান যোগ করতে পারেন।

অর্থাৎ এটি শুধু একটি বিউটি ট্রেন্ড নয়, বরং ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। রং, আকৃতি, নকশা ও ব্যবহারের জায়গা বদলে প্রত্যেকেই তৈরি করতে পারেন নিজের আলাদা জেমম্যাক্সিং লুক।

ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের দুনিয়ায় জেমম্যাক্সিং মূলত ঝলমলে সাজকে নতুনভাবে দেখার একটি প্রবণতা। সাধারণ লুকেও সামান্য রাইনস্টোন বা স্টোন যোগ করে যখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহ তৈরি করা যায়, তখন এই ট্রেন্ড তরুণ প্রজন্মের নজর কাড়বে-এটাই স্বাভাবিক।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

Original Source
https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1156698
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Lifestyle