সোনার পাতায় ফিরনি, সঙ্গে জিলাপি: ব্রিকস নেতাদের যা খাওয়ালেন মোদী
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ব্যস্ত প্রথমদিনের পর সন্ধ্যায় বিশ্বনেতাদের জন্য ছিল বিশেষ নৈশভোজ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারত মণ্ডপমে এই গালা ডিনারের আয়োজন করেন।
বর্ধিত ব্রিকস জোটের বিভিন্ন দেশের নেতাসহ অতিথিরা এতে অংশ নেন। খাবারের পাশাপাশি ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয় এই আয়োজনে।
পাতে শুধু ভেজিটেরিয়ান স্বাদ
ব্রিকস নেতাদের জন্য তৈরি মেন্যুতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার রাখা হয়েছিল। ছিল আঞ্চলিক ঐতিহ্যবাহী পদ, আবার পুরোনো দিল্লির জনপ্রিয় খাবারের অনুপ্রেরণাও।
নৈশভোজের শুরুতে পরিবেশন করা হয় ‘খান্ডভি মিল-ফয়’। সরিষা, নারকেল ও কারিপাতা দিয়ে তৈরি বেসনের বাষ্পে রান্না করা রোলের সঙ্গে ছিল কেশর আম, মাইক্রোগ্রিন ও দইয়ের ড্রেসিং।
আরেকটি স্টার্টার ‘খুম্ব গালৌটি’। মাশরুমের কাবাব প্যানে গ্রিল করে শিরমাল রুটির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে মিন্ট পার্লস।
মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার। শ্যালট ও টমেটোর ঘন গ্রেভিতে রান্না করা নরম পনির। হিমালয়ের মোরেল মাশরুম ও অ্যাসপারাগাস দিয়ে তৈরি ‘গুচ্চি মারমিক’-এর সঙ্গে জাফরান, কিশমিশ ও মামরা বাদাম।
এ ছাড়াও ছিল গাজর ও সবুজ শিমের ‘পোরিয়াল’। দক্ষিণ ভারতীয় মশলা, নারকেল তেল ও তাজা নারকেল দিয়ে পদটি তৈরি করা হয়।
ভাতের সঙ্গে ডাল ও বিটের রায়তা
মূল খাবারের তালিকায় ছিল ‘থাক্কালি বেলে সারু’। টমেটো ও কারিপাতা দিয়ে তৈরি হালকা তুর ডালের ঝোল ছিল তাতে।
ভাতের পদ হিসেবে পরিবেশন করা হয় মিলেট পোলাও। বাসমতি চাল ও পার্ল মিলেটের সঙ্গে বিভিন্ন মশলা ও মৌসুমি উপকরণ দিয়ে এটি রান্না করা হয়।
এর সঙ্গে ছিল বিটরুট রায়তা। ঠান্ডা দইয়ের সঙ্গে বিটরুট ও তাজা হার্বস মিশিয়ে তৈরি হয় এই পদ।
বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটিও ছিল খাবারের আয়োজনে।
মিষ্টির তালিকায় পুরোনো দিল্লির স্বাদ
নৈশভোজের মিষ্টির তালিকাতেও ছিল বৈচিত্র্য। বিশ্বনেতাদের পরিবেশন করা হয় ‘ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উইথ জিলাপি’।
মৌসুমি ফল ও হালকা ফেটানো ক্রিমের সঙ্গে ছিল মচমচে জিলাপি।
আরও ছিল ‘শাহতুত ফিরনি’। ধীরে রান্না করা দুধ ও চালের পুডিংয়ের ওপর তুঁত ফল ও সোনার পাতার সাজ।
খাবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
নৈশভোজের আকর্ষণ শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় ১৬০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও আয়োজন করা হয়।
‘ব্রিকস সিম্ফনি’ নামে এই পরিবেশনায় ভারতের শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ব্রিকসের কয়েকটি সদস্যদেশের শিল্পীরা অংশ নেন।
ভারতের ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কথকের মতো নৃত্যধারা এতে তুলে ধরা হয়। ভারতীয় শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রও পরিবেশন করেন। ভারতীয় শিল্পীরা এই পরিবেশনার জন্য দুইদিন ধরে মহড়া করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/





