ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা ও ডাকাতির মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে।
মামলার এক আসামির আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির নতুন তারিখ আগামী ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করেন আদালত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এদিন আসামি ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপনের আইনজীবী মো. জায়েদুর রহমান সময় চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ কারণে তার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় প্রয়োজন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কাশেম জানান।
এদিন মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজিরা দেন। কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকেও আদালতে হাজির করা হয়।
পরে সাগরের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট কে. এম. শরীফুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্যও আগামী ২৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার অন্য দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তবে মামলার নথি অনুযায়ী, মাহমুদ ইবনে বাশার জামিনে রয়েছেন।
যেভাবে হত্যা করা হয় ফারুকীকে
২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম ওই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। শুরুতে মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে করা হলেও তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতির অভিযোগের তথ্য উঠে আসে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফারুকীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসার দরজায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত কলিং বেল দেয়। দরজা খুললে প্রথমে দুজন ভেতরে ঢুকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর সঙ্গে ড্রয়িংরুমে বসে কথা বলতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর আরও ছয় থেকে সাতজন ওই বাসায় প্রবেশ করে। তাদের বসার জন্য জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। চেয়ার নিয়ে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, নুরুল ইসলাম ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ঠেকিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা।
এরপর বাসার সদস্যদের বেঁধে ফেলে তারা। একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা করা হয়। পরে বাসা থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
এমডিএএ/এমকেআর


