কোনো কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধিকে ঘুস দেওয়া যাবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান
ব্যবসায়ী ও করদাতাদের ঘুস না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেছেন, কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিকে ঘুস দেওয়া যাবে না। করব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, করদাতার সঙ্গে কর কর্মকর্তার সরাসরি যোগাযোগ থাকবে না। ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন দাখিল, নিরীক্ষার জবাব দেওয়া এবং করসংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা চালু করতে কাজ করছে এনবিআর। করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।
আহসান হাবিব আরও বলেন, এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে করদাতার সঙ্গে কর কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হবে না। করদাতা বাসায় বসে রিটার্ন দাখিল করবেন, নিরীক্ষার জবাব দেবেন এবং কোনো ভুল থাকলে অনলাইনেই তার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। এতে করদাতা হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হওয়ার সুযোগ কমবে। এ ব্যবস্থা চালুর জন্য এনবিআর কাজ করছে।
চলতি বাজেটে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি কর আইনজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখনো করজালের বাইরে রয়েছে। তাদের করজালের আওতায় আনার পাশাপাশি সঠিকভাবে কর আদায়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
আহসান হাবিব আরও বলেন, রাষ্ট্র জনগণের করের অর্থে সড়ক, সেতু, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সেবা তৈরি করে। তাই রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। দেশের প্রতি ভালোবাসার অর্থ শুধু আবেগ নয়; নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কর আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণের বড় দায়িত্ব রয়েছে। দেশের ৪২ হাজার কর আইনজীবী সম্মিলিতভাবে কাজ করলে রাজস্ব আয় ১০ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনতে কর আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে করদাতাদের হয়রানি বন্ধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
এদিকে, ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরাম (নীল প্যানেল) পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছে। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান দুলাল। সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম শহীদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব আহরণে কর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কাজের পরিবেশও উন্নত করা প্রয়োজন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত একটি কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানান। তার মতে, নির্ধারিত জায়গা পেলে আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ ও পেশাগত কার্যক্রম আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
এসএম/কেএসআর



