ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সাবেক হিসাবরক্ষকের ১৪ বছর জেল
জাল জমা রসিদ ব্যবহার করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের বরখাস্তকৃত হিসাবরক্ষক ইমামুল বাশারকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে তাকে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের দুই ধারার সাজাই একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করেছেন আদালত। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থ এবং অর্থদণ্ড বাবদ ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় ইমামুল বাশারকে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪৬৭ ও ৪৭১ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
দুই দফায় দেওয়া সাত বছর করে কারাদণ্ড একসঙ্গে চলবে। ফলে সব মিলিয়ে ইমামুল বাশারকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন তারিখে ভূমি সংস্কার বোর্ড থেকে অগ্রিম পরিশোধের টাকা গ্রহণ করেন ইমামুল বাশার।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভুয়া ও জাল জমা রসিদ তৈরি করে ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন। পরে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২১ সালের ৯ জুন মামলা করে।
মামলায় ইমামুল বাশারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে রোববার আদালত তাকে এসব ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
এমডিএএ/এমএমকে

