‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান ঢাকার ডিসির
চাকরি খোঁজার পরিবর্তে কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তার প্রত্যাশা, আগামী দিনে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরাই দেশের প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ১৩ শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
ফরিদা খানম বলেন, ভালো ফলাফল অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখলে চলবে না। জিপিএ-৫ কে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ হিসেবে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বড় লক্ষ্য স্থির করতে হবে।
দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশি কয়েকজন সফল ব্যক্তির উদাহরণ দেন। তাদের মধ্যে ড. এফ আর খান, জাওয়েদ করিম, সালমান খান, ড. আতাউল করিম, ড. জাহিদ হাসান ও তাহমিমা আনামের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকার জেলা প্রশাসক বলেন, এসব মানুষের অর্জন দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের মেধাবীদের সামর্থ্যের সীমা নেই। এখন নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব হলো অন্যের সাফল্য অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজেদের সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করা।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশি কোম্পানি, উদ্ভাবন ও পণ্যও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাবে। শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির স্বপ্ন দেখতে হবে, যার পণ্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছাবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফরিদা খানম বলেন, জীবনে শুধু একটি চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য রাখলে হবে না; অন্যের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি পণ্য ব্যবহার করার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতিও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।
এ সময় তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, শুধু ভালো ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছাড়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, স্টাফ অফিসার টু ডিসি মো. ইসরাফিল জাহান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এমডিএএ/কেএসআর


