দিল্লিতে অভিষেক ঝড়, আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিলো ভারত

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
দিল্লিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ শুরু করেছে ভারত। আফগানিস্তানের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে টপকে গেছে স্বাগতিকরা। ৩২ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের ...

দিল্লিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ শুরু করেছে ভারত। আফগানিস্তানের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে টপকে গেছে স্বাগতিকরা। ৩২ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের মূল কারিগর অভিষেক।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নেমেছিল ভারত। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন জসপ্রিত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী। বল হাতে অর্শদীপ সিং ও অক্ষর প্যাটেলও নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে অভিষেকের ঝড় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয়কে করে তোলে একেবারেই সহজ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে দেন বুমরাহ। চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে শুরুতে পাঁচটি ওয়াইড দিয়ে কিছুটা খরুচে ছিলেন ভারতীয় পেসার। তবে, পরের বলেই গুরবাজকে এমন এক ডেলিভারি দেন, যা ব্যাটে লেগে স্লিপে চলে যায়। ফলে প্রথম ওভারে ব্যাট থেকে কোনো রানই দিতে হয়নি বুমরাহকে।

এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন সেদিকউল্লাহ অটল ও নতুন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান। তৃতীয় ওভারে বুমরাহকে দারুণ ফ্ল্যাট একটি ছক্কা ও চার মারেন অটল। কিন্তু, চতুর্থ ওভারের শেষ বলে রানআউট হয়ে যান জাদরান। সেখান থেকেই আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামে।

অর্শদীপের দ্বিতীয় ওভারে অটল ফুল লেংথের বল গাইড করতে গিয়ে শর্ট থার্ডে ক্যাচ দেন। এরপর পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে বড় শট খেলার চাপে গুলবাদিন নাইব অক্ষর প্যাটেলের বলে ক্যাচ তুলে দেন। কভার থেকে পেছনে দৌড়ে গিয়ে মাথার ওপর দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন নীতিশ কুমার রেড্ডি।

এরপর নিজের প্রথম ওভারেই কার্যকরী হয়ে ওঠেন বরুণ চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে নিজের প্রথম ওভারেই দারবিশ রাসুলিকে বোল্ড করেন তিনি। আফগানিস্তানের স্কোর তখন ৭ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৪৩ রান।

সে অবস্থায় দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত তার ৬৪ রানের ইনিংসেই লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান। মোহাম্মদ নবী করেন ৩৩ রান। এতে করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।

ভারতের বোলিংয়ে অক্ষর চার ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নীতিশ কুমার রেড্ডি দুই ওভারে ৩০ রান দেন। অন্যদিকে, শেষের তিন ওভারে অর্শদীপ ও বুমরাহকে দিয়ে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন ভারতীয় অধিনায়ক। তবে, ২০তম ওভারটি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন শিবাম দুবে। সেই ওভারে সেট ব্যাটার ওমরজাই ২১ রান তুলে নেন। তাতেই ১৫০ পেরোয় আফগানিস্তানের স্কোর।

দিল্লির ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে অবশ্য ১৫৭ রানের লক্ষ্য ভারতের জন্য মোটেও বড় ছিল না। সেটিই প্রমাণ করেছেন অভিষেক শর্মা।

জবাব দিতে নেমে শুরুতে অবশ্য কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। ছয় মারতে গিয়ে সাঞ্জু স্যামসন ক্যাচ দেন। অবশ্য তার আগে দুটি চার মেরেছিলেন তিনি। এরপর অভিষেকের সঙ্গে জুটি গড়েন ইশান কিশান।

সম্প্রতি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ওপেনিংয়ে জায়গা পাওয়া নিয়ে কড়া প্রতিযোগিতা চলছে। তিন দুর্দান্ত ওপেনার অভিষেক, সাঞ্জু ও বৈভব সূর্যবংশীর মধ্যে দুজনকে বেছে নেওয়া নিয়ে ভারতের সামনে রয়েছে কঠিন সিদ্ধান্ত। জিম্বাবুয়ে সফর মিস করা অভিষেক ফিরেছেন দলে। তার জায়গায় আগের সিরিজে নজর কাড়া বৈভব সূর্যবংশী এবার ছিলেন না।

তবে, অভিষেক নিজের ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখলেন ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে। আগের ছয় ম্যাচে বড় রান না পাওয়ার পর এদিন যেন সব জবাব দিলেন এক ইনিংসেই।

শুরুটা করেন ফজলহক ফারুকির বলে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে। এরপর ওমরজাইয়ের বলে লং-অফের ওপর দিয়ে, আবার ফারুকির বলে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। রশিদ খানের বলে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন নিজের ছক্কার প্রথম দফা। এরপরও থামেননি। লং-অন, কভার ও স্কয়ার লেগ-মাঠের প্রায় সব প্রান্তেই বল পাঠাতে থাকেন গ্যালারিতে।

শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩২ বলে ৮২ রান করে অপরাজিত থাকেন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল একের পর এক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও ছক্কার ঝড়।

অন্য প্রান্তে ইশান কিশানও ভালো ছন্দে ছিলেন। তবে, অভিষেকের এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে অনেকটা দর্শকের ভূমিকাতেই থাকতে হয় তাকে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১২১ রানের জুটি গড়েন। কিশান ৩৩ বলে ৪২ রান করে আউট হন। দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি।

রশিদ খান অবশ্য শেষ পর্যন্ত উইকেট না পেলেও ভারতের জয়ের গতি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেন। দুটি দুর্দান্ত ক্যাচও নেন আফগানিস্তানের এই তারকা। কিন্তু তাতে অভিষেকের ঝড় থামেনি। মাত্র ১৩.৪ ওভারে ১৫৭ রান তুলে ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে ভারত।

বুমরাহ ও বরুণের প্রত্যাবর্তন, অর্শদীপ-অক্ষরের কার্যকর বোলিং এবং সবশেষে অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিং-সব মিলিয়ে দিল্লির রাতটা হয়ে থাকলো ভারতের। আর ৩২ বলে ৮২ রানের ইনিংসে অভিষেক যেন মনে করিয়ে দিলেন, ভয়ংকর ছন্দে ফিরলে তাকে থামানো কতটা কঠিন।

আইএইচএস/এএমএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1156907
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Sports