দুরন্ত ইয়ামালে দুর্দান্ত বার্সা, টানা ৫ ম্যাচে জয়
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলে জয় পেয়েছে তারা। লেভান্তের মাঠে গিয়ে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে চলতি মৌসুমে লিগে টানা পাঁচ ম্যাচেই জয় পেলো বার্সা। শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখার পাশাপাশি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধানও তৈরি করেছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। মাত্র পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় সফরকারীরা। জাভি এসপার্টের নেওয়া শট লেভান্তের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। লেভান্তের গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ান কিছুই করার সুযোগ পাননি।
এর আগে অবশ্য ইয়ামাল রাফিনহার বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। বলটি শেষ পর্যন্ত এসপার্টের কাছে চলে যায়। তার শটেই বার্সেলোনা পেয়ে যায় ম্যাচের প্রথম গোল।
গোল খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লেভান্তে। ভিক্টর গার্সিয়ার প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক সহজেই ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। এরপর পেতার রাতকভের শট আটকে যায় বার্সার রক্ষণে। রজার ব্রুগের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন হোয়ান গার্সিয়া।
তবে, ১৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সা। ফারমিন লোপেজের বাড়ানো বল ডিফ্লেক্ট হয়ে চলে যায় রাফিনহার কাছে। লেভান্তের গোলরক্ষক রায়ানকে কাটিয়ে বলটি ইয়ামালের দিকে বাড়িয়ে দেন রাফিনহা। মাত্র ছয় গজ দূর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান ইয়ামাল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লেভান্তে লড়াই ছাড়েনি। বরং বার্সেলোনার রক্ষণে কয়েকবার চাপ তৈরি করে তারা। একপর্যায়ে বার্সার রক্ষণে কিছুটা অসতর্কতার সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। মানু সানচেজ বল কেড়ে নিয়ে ক্রস করেন, কিন্তু গার্সিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তার শট চলে যায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে বার্সা। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার আলোচনায় ইয়ামাল। ডি-বক্সের ভেতর আইসা মান্দির চ্যালেঞ্জে পড়ে যান তিনি। রেফারি জন আন্দের গঞ্জালেস এসতেবান পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি ইয়ামাল। গোলরক্ষক রায়ানকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন নিজের জোড়া গোল। চলতি লিগে এটি ইয়ামালের ষষ্ঠ গোল।
তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও লেভান্তে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। ব্যবধান কমানোর অন্তত দুটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল তারা। হোয়ান গার্সিয়ার ভুল ক্লিয়ারেন্সের পর ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রুগে। কিন্তু তার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে বাইরে চলে যায়।
এরপর ইভান রোমেরোর দুর্বল শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। কিছুক্ষণ পর আবার রোমেরোর শট আটকে দেয় বার্সার রক্ষণ।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার বদলি খেলোয়াড় করিম আদেয়েমির একটি দুর্দান্ত হাফ-ভলি রায়ানকে কঠিন সেভ করতে বাধ্য করে।
তবে, ৭৯ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় লেভান্তে। বক্সের মধ্যে বার্সার একটি ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল দখলে নেন ইভান রোমেরো। এরপর গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।
এই গোলের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একের পর এক আক্রমণে বার্সেলোনার রক্ষণকে চাপে ফেলে স্বাগতিকরা। সেই চাপের ফলও পায় তারা। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে প্রথম প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার বাধা পান। ফিরতি বল পেয়ে আর ভুল করেননি তিনি। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে লেভান্তেকে ২-৩ ব্যবধানে নিয়ে আসেন।
শেষ কয়েক মিনিটে সমতা ফেরানোর আশায় মরিয়া হয়ে ওঠে লেভান্তে। বার্সেলোনার ওপর তখন প্রবল চাপ। তবে, যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সব উত্তেজনার অবসান ঘটান করিম আদেয়েমি।
নিজের দক্ষতায় দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন আদেয়েমি। এরপর নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন রায়ানের নাগালের বাইরে। ফলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।
ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণে থাকা বার্সেলোনা শেষদিকে অবশ্য বেশ চাপে পড়েছিল। ৩-০ ব্যবধান থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে লেভান্তে দুই গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আদেয়েমির গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এই জয়ে লিগে নিজেদের শতভাগ রেকর্ড ধরে রাখল বার্সেলোনা। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে তারা। অন্যদিকে, ম্যাচের আগে চার ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া লেভান্তে নিজেদের মাঠে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্টশূন্যই থাকল।
আইএইচএস/এএমএ
