ব্যাংকের এমডিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের কাঠামো

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে নতুন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের এই মূল্যায়ন করা হবে। নির্ধারিত সূচকে এমডির পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তার নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বেতন-ভাতা ও প্রণোদন...

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে নতুন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের এই মূল্যায়ন করা হবে। নির্ধারিত সূচকে এমডির পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তার নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বেতন-ভাতা ও প্রণোদনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি এমডির কর্মদক্ষতা ছয় মাসের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা এমডিদের প্রথম মূল্যায়নকাল ধরা হবে আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এরপর নতুন কোনো এমডি নিয়োগ হলে তার দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ছয় মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

পাঁচ দৃষ্টিভঙ্গিতে ১০০ নম্বর

এমডিদের কর্মদক্ষতা ও ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মোট ১০০ নম্বরের একটি অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের প্রান্তিকের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সূচকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পরই তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, জরুরি পরিস্থিতিতে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর।

খেলাপি ঋণ কমানো, অবলোপন করা ঋণ আদায় এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের কেন্দ্রীভবন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরও ২৫ নম্বর।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর দেওয়া হবে ২৫ নম্বর।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকের ভূমিকার জন্য রয়েছে ১৫ নম্বর। এর মধ্যে সিএমএসএমই ও কৃষিঋণ, গ্রিন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রসার, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ব্যাংকের মুনাফা অর্জন এবং পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার জন্য রাখা হয়েছে ১০ নম্বর।

৫০ শতাংশের কম অর্জনে শূন্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি নির্ধারিত সূচকে এমডিদের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কোনো সূচকে অর্জন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ওই সূচকে এমডি কোনো নম্বর পাবেন না।

তবে, ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিশেষ সূচকে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঋণ-আমানত অনুপাত, খেলাপি ঋণের অনুপাত, ঋণ আদায় ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে কোনো এমডি ৫০ শতাংশের কম অর্জন করলে বা শূন্য পেলে তার মোট অর্জিত নম্বর থেকে নির্দিষ্ট হারে পেনাল্টি কেটে নেওয়া হবে।

তিন স্তরে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন

সামগ্রিক মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করলে এমডির কর্মদক্ষতাকে ‘গড়পড়তার চেয়ে ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

৬৫ থেকে ৭৫-এর কম নম্বর পেলে তা ‘গড়পড়তা’ পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হবে। আর ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট এমডির কর্মদক্ষতা ‘নিম্নমানের পারফরম্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, অভিন্ন এই মূল্যায়ন কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা আরও স্পষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

ইএআর/এএমএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/economy/news/1156914
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Geopolitics