বান্ধুবীর বাবার ধর্ষণের শিকার সাত বছরের শিশু, হত্যার পর ঘরেই মাটিচাপা

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর প্রমাণ গায়েব করতে নিজ বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে শিশুটির লাশ পুঁতে রাখে ঘাতক। জানা যায়, শিশুটিরই এক সহপাঠী ও বান্ধুবীর বাবা এ ঘটনায় দায়ী। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকা...

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর প্রমাণ গায়েব করতে নিজ বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে শিশুটির লাশ পুঁতে রাখে ঘাতক। জানা যায়, শিশুটিরই এক সহপাঠী ও বান্ধুবীর বাবা এ ঘটনায় দায়ী।

অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, নিহত শিশুটি প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে সে স্কুলে যেতো এবং প্রায়ই তাদের ঘরে খেলতে যেতো। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে যাওয়ায় ঘরে সে একাই ছিল। এই সুযোগে ভুক্তভোগী শিশুটি তাদের ঘরে গেলে জামিলুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি।

পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের ঘরের ভেতরেই গর্ত খুঁড়ে শিশুটিকে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন জামিলুল।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিশুটি। সকাল সাড়ে ৯টায় তার মা নিজ মেয়ের খোঁজ নিতে স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন শিশুটি স্কুলে যায়নি। এরপর থেকেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের সব পুকুর ও নালায় তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে বসতঘরের মাটি খুঁড়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

রোববার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় একটি মামলা হয়। আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে মূল অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মামা বলেন, এটা মেনে নেওয়ার মতো না। কী মেনে নেবো বলেন। আল্লাহ গো, এর বিচার কি হবে? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দিবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দিবেন না। কিছুদিন আগে আরেকটা ঘটনা ঘটছে। দুইটা ফাঁসি, দুইটা খুনের আসামি, খালি রায় হয়েছে কোনো ফাঁসি এখনো কার্যকর হয় নাই।

হৃদয় আহম্মেদ/এএমএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1156917
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World