মাঠে পারফরম্যান্স নেই, ড্রেসিংরুমেও জ্যোতিকে ঘিরে ক্ষোভ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। মাঠের ভেতরের নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে আচরণ, দল নির্বাচন ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ। বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের পর সেই পুরোনো আলোচনাই আ...

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। মাঠের ভেতরের নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে আচরণ, দল নির্বাচন ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ। বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের পর সেই পুরোনো আলোচনাই আবার সামনে এসেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলের ভেতরে তার ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
 
সংবাদ সম্মেলন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে জ্যোতির কথাবার্তায় বরাবরই একটা আগ্রাসী ভাব দেখা যায়। মাঠেও তার নেতৃত্বের অন্যতম আলোচিত দিক অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি। প্রতিটি বলের সময় ফিল্ডারদের নির্দেশ দিতে গিয়ে তার উচ্চবাচ্য অনেক সময় উল্টো চাপ তৈরি করে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। জয়ের খুব কাছে গিয়েও ম্যাচটি হারার পর জ্যোতির মাঠের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবারের এশিয়া কাপেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ব্যাটারের ব্যাটে বল লাগার পরপরই জ্যোতির চিৎকারে ফিল্ডারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এমন অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এক ম্যাচে চারটি ক্যাচ পড়ে, যার তিনটিই ছিল ফিফটি করা শেফালি ভার্মার। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে শেফালির ক্যাচ ফেলেছিলেন ফাহিমা খাতুন। অথচ দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার এবং তুলনামূলক লম্বা স্বর্ণা আক্তারকে তখন বাউন্ডারিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এশিয়া কাপ শুরুর আগেই জ্যোতির একটি মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেমিফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান না, এমন কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত সেই ভারতের বিপক্ষেই সেমিফাইনালে খেলতে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচে চারটি ক্যাচ মিসের ঘটনা সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অধিনায়কের এমন অবস্থান দলের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না।

মাঠের বাইরের অভিযোগগুলোই অবশ্য জ্যোতিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাববলয় তৈরি করে সিনিয়রদের সরিয়ে জুনিয়রদের একটি অংশকে কাছে টেনে নিয়েছেন তিনি। জাহানারা আলম ও সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদের দল থেকে সরে যাওয়া, এমনকি দেশের নারী ক্রিকেটের অন্যতম বড় নাম সালমা খাতুনের সঙ্গেও জ্যোতির আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’

আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’

অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।

জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে আনা এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমন দাবি করেছেন দলসংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। দলসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল। পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেস দিয়ে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। এমন দাবিও রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক অবশ্য জ্যোতির মাঠের নেতৃত্ব নিয়ে পুরোপুরি নেতিবাচক নন। তার মতে, মাঠে অধিনায়ক হিসেবে কৌশল সাজানো, বোলিং পরিবর্তন করাতে জ্যোতি খারাপ নন। তবে মাঠের বাইরে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর আপত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে ও যথেষ্ট খারাপ নয়। ওর তত্ত্বাবধানে আসলে আমি বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি। হ্যাঁ, খুব একটা বেশি খেলার সুযোগ হয়নি। আমার মনে হয় না যে ও একজন জুনিয়র হিসেবে কখনো বলতে পারে, আমরা সিনিয়ররা ওর সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেছি, ওর কথা অমান্য করেছি বা ও যা বলেছে, সেটা শুনিনি। আমরা কখনোই ওর কথার বাইরে যাইনি। অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি মনে করি, ও একজন অধিনায়ক হিসেবে ঠিক আছে।’

তবে মাঠের নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠের বাইরের নেতৃত্বকে এক করে দেখতে রাজি নন ওই সাবেক অধিনায়ক, ‘মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি। একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।’

মাঠে জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকারের বিষয়টিও দলের ভেতরে আলোচনায় এসেছিল বলে জানিয়েছেন ওই সাবেক অধিনায়ক। কিন্তু অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরও ইতিবাচক কোনো সমাধান হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আর মাঠের যে অযথা চিল্লাপাল্লা, এখন ওটা নিয়ে আমরা কোচ বা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম একবার যে ও একটু বেশি চিল্লাপাল্লা করছে। কিন্তু উল্টো আমাদের কথা শোনানো হয়েছিল এর কারণে। আমরা যখন বলেছিলাম, তখন আমাদের বলা হয়েছিল, এটা ও ক্রিকেটের স্বার্থে করছে। কিন্তু এটা যে দৃষ্টিকটু লাগছে বা এভাবে চিল্লাপাল্লা করলে যে জুনিয়ররা ঘাবড়ে যায় এবং তারা তাদের পারফরম্যান্স করতে পারে না, এটা নিয়ে কখনো আমাদের সঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা হয়নি।’

জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলে অনেক সময় উল্টো সিনিয়র ক্রিকেটারদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি, ‘আমি জানি না কেন বা কে বা কারা আসলে এই কাজগুলো করছে। যারা ওর শুভাকাঙ্ক্ষী আছে, অনেক সাংবাদিক বলেন বা অনেক লোক আছে যারা ওর প্রতি ইতিবাচক, ওর ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখার জন্য আমাদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে। কিন্তু ওর কাছ থেকেই শুনতে পারবেন যে আমরা সিনিয়ররা কখনো ওর সঙ্গে বাজে আচরণ করেছি কি না।’

সাবেক এই অধিনায়ক দাবি করেন, পারফরম্যান্সের বাইরে দলীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার কারণেই তাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন দলে ছিলাম, কখনো পারফরম্যান্সের কারণে বাইরে ছিলাম না। আমি সবসময় দলকে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাকে একটা সময় বসিয়ে দেয় কারণ, আমি দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতাম। এটা একজন সিনিয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য ছিল যে দলে আমরা যে সমস্ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলাম। ড্রেসিংরুম বলেন, আমাদের ওয়েট ক্যারি নিয়ে বলেন, আমাদের ভিডিও অ্যানালিস্টকে নিয়ে বলেন বা ফিটনেস এগুলো নিয়ে যতবার কথা বলেছি, মানে আমাকে ততবারই কথা শুনতে হয়েছে এবং একটা সময় আমাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে।’

তার দাবি, একপর্যায়ে পারফর্ম করার পরও তাকে পুরো স্পেল বোলিং করতে দেওয়া হয়নি, এমনকি নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগও পেতেন না। তিনি বলেন, ‘তার আগেই যদি দেখতে চান, আমি পারফর্ম করা সত্ত্বেও কিন্তু আমি ফুল স্পেলে বল করতে পারিনি। তারপরে প্যাড পরে আমার এমনও অনেক দিন গেছে যে আমি কিন্তু মাঠের বাইরে বসে ছিলাম। ইনফ্যাক্ট, আমাকে ঠিকমতো প্র্যাকটিস পর্যন্ত করানো হতো না। আমি কিন্তু মাঠের বাইরে কান্নাকাটিও করেছি অনেক। আমি মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে কান্নাকাটি করেছি। যাক, এখন তো আর আমরা খেলা নিয়ে চিন্তা করছি না, কিন্তু চিন্তা করছি যে একটা ভালো পরিবেশ যেন পায় ক্রিকেট। একটা ভালো পরিবেশ আমাদের মেয়েদের দরকার, যেখানে আসলে এই ধরনের নোংরামি যেন আর না থাকে।’

তার ভাষ্যেই উঠে এসেছে, দলের অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার এখনো নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের এখনো অনেক ভালো ট্যালেন্টেড মেয়েরা আছে, যারা চাইলে পারফর্ম করতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু সিন্ডিকেটের জন্য এগুলো থেকে তারা বঞ্চিত আছে।’

শুধু ড্রেসিংরুমের অভিযোগ নয়, জ্যোতির অধিনায়কত্বের সময় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গত পাঁচ বছরে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৮০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। এর মধ্যে জয় ৩২ ম্যাচে, হার ৪৭টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

এই ৮০ ম্যাচের ৫৫টি হয়েছে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে। সেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১০টি। এর মধ্যে সাতটিই এসেছে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। অর্থাৎ টেস্ট খেলুড়ে বাকি শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ৪৩ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি।

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত পাঁচ বছরে ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। এসব ম্যাচে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই গড়ে তুলতেও ব্যর্থ হয়েছে দলটি।

অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও সেই জায়গায় আশাবাদী হওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিচ্ছে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ১০ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসেনি কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ ৩৬ রান। শেষ ১০ ইনিংসে তার রান — ১৯, ০, ২৭, ৩৬, ৩২, ৩২, ১০, ৪, ২৩ ও ১৯।

এশিয়া কাপেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্যোতির কাছ থেকে প্রত্যাশিত আগ্রাসন দেখা যায়নি। অথচ দলের ব্যাটিং এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্বলতার জায়গা হয়ে আছে। একজন অধিনায়কের কাছে তাই নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় ব্যাট হাতে সামনে থেকে দায়িত্ব নেওয়ার। সেখানেও ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট।

ওই সাবেক অধিনায়কের অভিযোগেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দীর্ঘদিনের দুরবস্থার কথা। তিনি বলেন, ‘এই যে পাঁচ বছর ধরে আমি বারবার একই কথা বলি। পাঁচ বছর ধরে একটা ব্যাটিং কোচ আছে আমাদের সঙ্গে। তিনি কী কাজ করছেন যে আমরা এখন পর্যন্ত ১২০-এর ওপরে নরমাল টিমের সঙ্গে যেতে পারি না, বড় টিমের সঙ্গে তো দূরের কথা থাক।’

সব অভিযোগের পরও জ্যোতি এখনো অধিনায়কত্বের জায়গায় বহাল। মাঠের ফলাফল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, সতীর্থদের অভিযোগ কিংবা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ সব মিলিয়ে এখন প্রশ্নটা শুধু একজন অধিনায়কের নেতৃত্ব নিয়ে নয়; বরং বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েও।

বিসিবি অবশ্য এখনই কোনো সিদ্ধান্ত আসতে চাইছে না। আসন্ন এশিয়ান গেমসের পর জ্যোতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে নারী ক্রিকেটে পরিবর্তন অবশ্য এর মধ্যে শুরু হয়েছে। ডেভিড হেম্পকে নতুন হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে বিসিবি। 

এসকেডি/আইএন

Original Source
https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1157005
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Sports