বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
‘বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে’- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। শুধু তাই নয়, এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্...

‘বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলার খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে’- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।

শুধু তাই নয়, এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে আরেকটি ‘দারুণ চুক্তি’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সার্জিও গরের এ বক্তব্যের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যেই সার্জিও গরের পোস্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

অ্যাভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাভিয়েশন দ্রুত বর্ধনশীল খাত। এখন দেশে বছরে এক কোটির মতো যাত্রী পরিবহন করছে, যা আগামী এক দশকের মধ্যেই আড়াই কোটিতে উন্নীত হবে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যাত্রী বিবেচনায় বিমানের কত সংখ্যক উড়োজাহাজ দরকার এবং আগামী ১৫ বছরে নতুন যত উড়োজাহাজ আসবে সেগুলো কোথায় কীভাবে ব্যবহার করে লাভবান হওয়া যাবে?

এছাড়া বিমানের এত উড়োজাহাজ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আছে কি না তা যথাযথ বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা হয়েছে কি না। এ বিষয়ে জানতে বিমানকে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে লিখিত প্রশ্ন করেও আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে বিমান। কিন্তু বোয়িং থেকে ওই ১৪টির বাইরে আরও উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে কি না সে বিষয়টি অস্পষ্ট।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। চুক্তি হয়েছে আরও ১৪টি নতুন বোয়িং কেনার। ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও বিমানকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বিমান। এই লিজ প্রক্রিয়াও চলমান। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক বছরে বিমানের বহর বর্তমান আকারের তুলনায় বেশ বড় হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট।

বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ১০টি ওয়াইড-বডির ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ এবং চারটি ন্যারো-বডির ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। এসব উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহর আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও বোয়িং কেনার পরিকল্পনা

গত ৩০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি ‘অসাধারণ চুক্তিতে’ পৌঁছেছেন, যার অধীনে বাংলাদেশ বোয়িং বিমানের জন্য তাদের প্রাথমিক অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।’

তিনি লেখেন, ‘এই সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও একটি অবিশ্বাস্য চুক্তি করেছেন, যেখানে বাংলাদেশ তাদের প্রাথমিক অর্ডারের চেয়ে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করে আরও বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

তবে পোস্টে নতুন করে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, মোট কত বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কিংবা চুক্তিটি কবে ও কোথায় হয়েছে- এসব বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

যদিও ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন সার্জিও গর। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সার্জিও গর লেখেন ‘আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আমাদের অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় করার জন্য বিদ্যমান চমৎকার সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রাধিকার। একসঙ্গে কাজ করলে আমরা বাস্তব সাফল্য অর্জন করতে পারব!’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপ কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা সামনে আসে। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এরপর সার্জিও গর ‘আরও উড়োজাহাজ’ কেনার বিষয়ে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা বিমানের অনেকেই স্পষ্ট নয়।

সার্জিও গরের স্ট্যাটাসের পর বিমানের আরও উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে আমার ধারণা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে ২৫টি বোয়িং কেনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। হয়তো উনি (সার্জিও গর) ওটাকে ইঙ্গিত করছেন।-অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম 

তবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে সম্মিলিত যে বাজার, তাতে বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোর হিস্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। বাকি প্রায় ৭৫ শতাংশই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১৯ জুলাই বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা ২০২৭ সালের মধ্যে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ তাদের বহরে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। যাত্রী বিবেচনায় কুয়েত, বাহরাইন, সৌদিআরব, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বেশ কিছু রুটে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা। কিন্তু বিমানের এমন পরিকল্পনা বা সার্জিও গরের বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জানায়নি বিমান।

এ বিষয়ে জানতে গত ৮ সেপ্টেম্বর বিমানের মুখপাত্র মহিউদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওই ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর আরও ঠিক কয়টি আকাশযান দরকার। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি মোবাইল ফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত প্রশ্ন পাঠাতে বলেন। তবে প্রশ্ন পাঠানো হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সার্জিও গরের স্ট্যাটাসের পর বিমানের আরও উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে আমার ধারণা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে ২৫টি বোয়িং কেনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। হয়তো উনি (সার্জিও গর) ওটাকে ইঙ্গিত করছেন।’

তিনি বলেন, ‘পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু ওই চিঠিতে আবার আরও কয়টি উড়োজাহাজ কেনা হবে তা উল্লেখ নেই।’

বিমানের আরও উড়োজাহাজ প্রয়োজন আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রচণ্ডভাবে আমরা মার্কেট লুজ করেছি। সেই পারসপেক্টিভে বাংলাদেশের ক্যাপাসিটি বাড়াতেই হবে। কারণ, ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’

‘যেখানে আমাদের একসময় ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ছিল ৯০-এর দশকের দিকে, সেটা আজ কমে ২৫-২৬ শতাংশে নেমেছে। সেই হিসাবে চিন্তা করলে মার্কেট শেয়ার বাড়াতে হবে। মার্কেট শেয়ার বাড়ানোর জন্য প্রথম কাজ হলো বিমানের বহর বাড়ানো’, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে কী উড়োজাহাজ কিনবেন, কোন ধরনের কিনবেন, সেটা নির্ভর করবে ওই এয়ারলাইন্সের রুট ও রুটের সঙ্গে মিলিয়ে কোন পলিসিতে যেতে চায়। এক কথায় বিমানের উড়োজাহাজ দরকার আছে। বাণিজ্যিকভাবে লাভ করতে বিমানের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।’

বহর বৃদ্ধি ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অবশ্যই দরকার আছে। একটি এয়ারলাইন্সকে টিকে থাকতে হলে তাদের এয়ারক্রাফট লাগবে। বহর বৃদ্ধি ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারবে না।-অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক বছর আগে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার কথা বলেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকার ১৪টির জন্য চুক্তি করেছে। আমার মনে হয়, তারই ধারাবাহিকতায় বাকি ১১টির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এটি এখনো চুক্তির পর্যায়ে যায়নি।’

বিমানের বহর বাড়ানোর যৌক্তিক জানিয়ে কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বহর বৃদ্ধি ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অবশ্যই দরকার আছে। একটি এয়ারলাইন্সকে টিকে থাকতে হলে তাদের এয়ারক্রাফট লাগবে। বহর বৃদ্ধি ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারবে না।’

প্রতিযোগিতার বাজারে এখন তাদের যে এয়ারক্রাফটগুলো আছে সেগুলো আগামী পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে ফেজ আউট করতে হবে জানিয়ে বলেন, ‘তখন এগুলোর বয়স হয়ে যাবে। বয়স হয়ে গেলে বাদ দিতে হবে। এগুলো যদি বাদ দিতে হয় তাহলে তো নতুন এয়ারক্রাফট লাগবেই। কাজেই সেই হিসাবে এয়ারক্রাফট অর্ডার দেওয়াটা আমার মনে হয় সময় উপযোগী সিদ্ধান্তই হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে, এয়ারক্রাফট তো এমন জিনিস না যে আজ অর্ডার দিলে আজ পাওয়া যায়। এটা তো লম্বা সময় লাগে। আজ চুক্তি হলে ২৫টি প্লেন পেতে ২০৪০ সাল হয়ে যাবে। অথচ ২০৩৫ সালে বাংলাদেশের বর্তমান এই প্যাসেঞ্জার গ্রোথ ডাবল হয়ে যাবে।’

বিমান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বা ট্যারিফ জটিলতা ও বাণিজ্য আলোচনা সহজ করার অংশ হিসেবে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তখনই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং বিমানের ওপর আর্থিক চাপের আশঙ্কাও করেছিলেন অনেকে।

বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে জানতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা রিসিভ করেন তার সহকারী একান্ত সচিব মো. এনামুল কবির। তিনি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তরিকুল ইসলাম। তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলেন জানান।

তবে গত ৩১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এক অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে এবং আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাসের উড়োজাহাজও কেনা হবে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার ব্যাখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন থেকে আমরা বোয়িং অপারেট করি, বোয়িংয়ের যে পুরো সাপোর্টিং স্টাফ, সেটা আমাদের অনেকটা প্রস্তুত আছে, প্রশিক্ষিত আছে, সে কারণেই আমাদের বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি চুজ করার প্রবণতা আছে। প্রয়োজনে এয়ারবাস থেকেও বাংলাদেশ উড়োজাহাজ কিনবে।

১০ উড়োজাহাজ কিনতে বিমানে প্রস্তাব এয়ারবাসের

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পর বাংলাদেশের উড়োজাহাজ বহর সম্প্রসারণে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। এ প্রস্তাবে ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ বিক্রির কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনার জন্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সফর করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত। তারা তখনকার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে বিমান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিমানের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে টেকসই মিশ্র বহর গঠনের লক্ষ্যে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথাও জানানো হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এয়ারবাসের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

গত ১ সেপ্টেম্বর বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশকে সরকার অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যে কারণে ৭০ থেকে ৮০টি বড় উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশনে খাতে। সে চাহিদা অনুযায়ী বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। তবে এয়ারবাস থেকে কেনা হবে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

এমএমএ/এএসএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1157060
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Economy