শিশুদের মতো রং করুন, কমবে মানসিক চাপ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ছোটবেলায় রং পেন্সিল হাতে নিয়ে খাতার পাতায় ইচ্ছেমতো রং করার আনন্দের কথা মনে আছে? ফুলের পাপড়ি কখনো নীল, আকাশ কখনো গোলাপি, আবার গাছের পাতাও হয়তো সবুজের বদলে অন্য কোনো রঙে রাঙানো হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই রঙের খাতা হারিয়ে গেলেও মানসিক চাপ যেন জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। কাজের...

ছোটবেলায় রং পেন্সিল হাতে নিয়ে খাতার পাতায় ইচ্ছেমতো রং করার আনন্দের কথা মনে আছে? ফুলের পাপড়ি কখনো নীল, আকাশ কখনো গোলাপি, আবার গাছের পাতাও হয়তো সবুজের বদলে অন্য কোনো রঙে রাঙানো হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই রঙের খাতা হারিয়ে গেলেও মানসিক চাপ যেন জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। কাজের চাপ, পারিবারিক ব্যস্ততা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সব মিলিয়ে নিজের জন্য সময় বের করাই কঠিন।

তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেই একটু সময় নিয়ে আবার রং পেন্সিল হাতে বসতে পারেন। কারণ রং করা শুধু শিশুদের আনন্দের বিষয় নয়, বড়দের জন্যও এটি হতে পারে মনোযোগ ধরে রাখার এবং ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার একটি সৃজনশীল উপায়।

রং করলে মন শান্ত হয় কেন?

মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রং করার সময় একজন মানুষ নির্দিষ্ট একটি কাজের দিকে মনোযোগ দেন। কোন জায়গায় কোন রং ব্যবহার করবেন, কীভাবে নকশাটি সাজাবেন- এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক একটি সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকে।

মনোবিজ্ঞান ও শিল্পভিত্তিক থেরাপি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, সৃজনশীল কাজ অনেক মানুষের ক্ষেত্রে আবেগ প্রকাশ এবং মানসিক চাপ সামলানোর একটি সহায়ক উপায় হতে পারে। তবে রং করাকে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে থাকা কিছু রোগী রং করার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর নিজেদের উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা কম অনুভব করেছেন। গবেষকরা মনে করেন, এমন সৃজনশীল কাজ সাময়িকভাবে মনোযোগকে দুশ্চিন্তা থেকে সরিয়ে অন্য একটি কাজে কেন্দ্রীভূত করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে বিষয়টি কী?

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা যায় ‘মাইন্ডফুল অ্যাক্টিভিটি’ বা সচেতনভাবে কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া। অর্থাৎ একই সময়ে অতীতের ঘটনা কিংবা ভবিষ্যতের চিন্তায় না ডুবে বর্তমান কাজটির দিকে মনোযোগ দেওয়া। তবে মনোবিজ্ঞানীরা এটিও মনে করিয়ে দেন, রং করার অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একরকম নাও হতে পারে। কারো কাছে এটি আনন্দদায়ক ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে, আবার কেউ এতে বিশেষ আগ্রহ নাও পেতে পারেন।

২০১৮ সালের একটি গবেষণাতেও দেখা যায়, শুধু ম্যান্ডালা রং করলেই সবার উদ্বেগ কমায়। সচেতন মনোযোগের সঙ্গে রং করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ কমানোর কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

বড়রা যেভাবে শুরু করবেন

এর জন্য বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই। একটি খাতা, রঙ পেন্সিল, ক্রেয়ন বা জলরং-যা আছে তাই দিয়েই শুরু করতে পারেন। ফুল, পাতা, ম্যান্ডালা, জ্যামিতিক নকশা কিংবা প্রকৃতির ছবি একে পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো কিছু বেছে নিন।

প্রথম দিনেই নিখুঁত ছবি তৈরি করার চেষ্টা করবেন না। বরং ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ফোনটি পাশে রেখে নিজের মতো করে রং করুন।

কোনো ছবির আকাশ নীলই হতে হবে, এমন নিয়ম নেই। ইচ্ছা হলে গোলাপি করুন, বেগুনি করুন কিংবা একাধিক রং মিশিয়ে নিজের মতো সাজান।

রং করার সময় যা করবেন

রং করার সময় মোবাইলের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে পারেন। টেলিভিশন বা অন্য কোনো বিভ্রান্তিও এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে রং করুন এবং নিজের কাজের সঙ্গে অন্যের কাজের তুলনা করবেন না।

পরিবারের সদস্যদের নিয়েও আয়োজন করা যায়। সন্তান, বন্ধু কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে একসঙ্গে বসে রং করলে এটি আনন্দের সামাজিক কার্যক্রমেও পরিণত হতে পারে।

অভ্যাস হতে পারে

সপ্তাহে একদিন ২০-৩০ মিনিট নিজের পছন্দের কোনো সৃজনশীল কাজে সময় দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য কয়েক মিনিট থামার একটি সুন্দর উপলক্ষ হতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটলে শুধু রং করার ওপর নির্ভর না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তাই ছোটবেলার রং পেন্সিলের বাক্সটি বের করে নিন। ছবিটি কতটা সুন্দর হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-রঙ করার সময়টুকু আপনি নিজের জন্য কতটা উপভোগ করলেন।

সূত্র: টাইমস ম্যাগাজিন, হেলথ লাইন

এসএকেওয়াই

Original Source
https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1157092
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Lifestyle