পেট থেকে গড়গড় শব্দ কেন হয়?
চুপচাপ বসে আছেন, হঠাৎ পেটের ভেতর থেকে গড়গড়, গুড়গুড় শব্দ! আশপাশের কেউ শুনে ফেলবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়ে যান। আবার বেশিরভাগ মানুষের ধারণা, পেট থেকে এমন শব্দ হওয়ার মানেই হলো ক্ষুধা পেয়েছে। কিন্তু বিষয়টি আসলে এতটা সহজ নয়। পেট ডাকলেই যে শরীর খাবার চাইছে, এমনটা নয়। হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও পেট ও অন্ত্র থেকে নানা ধরনের শব্দ হতে পারে।
পেট থেকে শব্দ হয়
আমাদের পরিপাকতন্ত্র সবসময়ই কোনো না কোনোভাবে কাজ করে চলেছে। খাবার খাওয়ার পর তা পাকস্থলী থেকে অন্ত্রের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময় পেট ও অন্ত্রের পেশি নিয়মিত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে খাবার, তরল ও গ্যাসকে সামনে এগিয়ে নেয়। এই স্বাভাবিক নড়াচড়াকে বলা হয় পেরিস্টালসিস।
খাবার ও তরলের সঙ্গে অন্ত্রে থাকা গ্যাসও যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে, তখনই তৈরি হতে পারে গড়গড় বা গুড়গুড় শব্দ। তাই খাওয়ার পরও পেট থেকে শব্দ হওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।
খালি পেটে শব্দ বেশি শোনা যায়
অনেক সময় খালি পেটে পেটের শব্দ বেশি জোরে শোনা যায়। এর একটি কারণ হলো, তখন পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবারের পরিমাণ কম থাকে। ফলে ভেতরে তৈরি হওয়া শব্দ শোষণ করার মতো উপাদানও কম থাকে। তাই অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও গ্যাসের চলাচলের শব্দ তুলনামূলক স্পষ্ট শোনা যেতে পারে। এ কারণেই পেট গড়গড় করলেই যে খিদে পেয়েছে, তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বেশি বাতাস গেলেও হতে পারে
খাওয়ার সময় আমরা অজান্তেই কিছুটা বাতাস গিলে ফেলি। তবে খুব দ্রুত খাওয়া, খাওয়ার সময় বেশি কথা বলা, চুইংগাম চিবোনো কিংবা কার্বনেটেড পানীয় পান করার অভ্যাস থাকলে শরীরে ঢুকে পড়া বাতাসের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, অন্ত্রে কিছু খাবার ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভাঙার সময়ও গ্যাস তৈরি হয়। সেই গ্যাস ও তরল অন্ত্রের মধ্যে চলাচল করার সময় পেট থেকে শব্দ শোনা যেতে পারে। ডাল, কিছু সবজি, বেশি আঁশযুক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাসের পরিমাণ বাড়াতে পারে।
বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্যেও বাড়তে পারে শব্দ
শুধু ক্ষুধা বা গ্যাস নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন কিংবা একবারে অনেক বেশি খাবার খাওয়ার কারণেও অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিবিধিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে পেট থেকে আগের তুলনায় বেশি শব্দ শোনা যেতে পারে।
তবে শুধু পেট থেকে গড়গড় শব্দ হচ্ছে বলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি এর সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ না থাকে, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।
কখন সতর্ক হবেন?
তবে পেটের শব্দের সঙ্গে যদি দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা, মলত্যাগে সমস্যা কিংবা হঠাৎ মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং একইসঙ্গে গ্যাস বা মলত্যাগ একেবারেই না হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
পেটের অস্বস্তি কমাতে কী করবেন?
পেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে খাবার ধীরে ধীরে খান এবং ভালো করে চিবিয়ে খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোন খাবার খেলে আপনার গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি বাড়ে, সেটিও খেয়াল রাখতে পারেন।
পেটের গড়গড় শব্দ সবসময় ক্ষুধার সংকেত নয়। অনেক সময় আপনার শরীরের ভেতরের পরিপাকতন্ত্র শুধু নিজের স্বাভাবিক কাজটাই করছে!
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, ইন্ডিয়া টুডে
এসএকেওয়াই

