ডাকসুর ব্যাখ্যা সমর্থনযোগ্য নয়, জিন্নাহর ছবি টানানো ‘ইতিহাস বিকৃতি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় বিভিন্ন ছবি সংযোজন ও সরানোর ঘটনাকে ‘ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ডাকসুর ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় কয়েকটি ছবি যুক্ত করা ও সরানোর ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটি মনে করে, এসব কর্মকাণ্ড ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা এবং এর মাধ্যমে ইতিহাসকে দলীয়করণের বাইরে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের কেন্দ্রে পরিণত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি যুক্ত করা হয়েছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঙালির ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে তারা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
তারা বলেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’ এর পর তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জিন্নাহর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।
তাদের মতে, পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত ভাষা আন্দোলনই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে দেয়। এ কারণে ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পর সমালোচনা তৈরি হলে ডাকসু নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে জিন্নাহ যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটি দেখানোর জন্যই ছবিটি যুক্ত করা হয়েছে। তবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দাবি, এ ব্যাখ্যা সমর্থনযোগ্য নয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রাম—এ ক্ষেত্রে ডাকসুর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও ছাত্রসমাজের লড়াইয়ের ইতিহাসের বিপরীতে সংগ্রহশালাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও এর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে নানা মূল্যায়ন হতে পারে। কিন্তু পুরো আন্দোলন থেকে তাকে বাদ দিয়ে ইতিহাস উপস্থাপন করলে তা ইতিহাসের সঠিক চিত্র তুলে ধরে না। একই সঙ্গে সংগ্রহশালায় ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি যুক্ত করার কোনো ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে বলেও তারা মনে করেন না।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদের চাওয়া ছিল মুক্তিযুদ্ধকে দখল করা ও হেয় করার এই বিমূর্ত অপতৎপরতার বিপরীতে দেশের মানুষের প্রকৃত লড়াইয়ের ইতিহাস ছাত্র-জনতার কাছে তুলে ধরবে ডাকসু। কিন্তু ডাকসুসহ ছাত্র সংসদগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা সামনে আনার পরিবর্তে মুছে দেওয়ার ধারাবাহিক অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ ইতিহাস বিকৃতি, ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের ভূমিকা মুছে দেওয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে কালিমালিপ্ত করার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
আরটি/এমকেআর

