এমবাপেকে সেরা মানলেও ব্যালন ডি’অর নিজেরই প্রাপ্য মনে করেন ইয়ামাল
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এ বছর বেশ জোরেশোরেই নিজের দাবি তুলে ধরলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার মতে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় তিনি ও কিলিয়ান এমবাপেই এগিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরটা তারই পাওয়া উচিত বলে মনে করেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড।
রোববার লেভান্তের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন ইয়ামাল। তাতে চলতি মৌসুমে মাত্র ছয় ম্যাচেই তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। দুর্দান্ত এই ফর্মের পাশাপাশি গত মৌসুমের সাফল্যও ব্যালন ডি’অরের দাবিকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
গত মৌসুমে ইয়ামালের পারফরম্যান্সে লা লিগা জিতেছিল বার্সেলোনা। এরপর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপও জয় করেন তিনি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনের আটটি ম্যাচেই খেলেছেন ইয়ামাল। যদিও তার গোল ছিল মাত্র একটি।
চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। এবারের লড়াইকে বেশ উন্মুক্ত মনে করা হচ্ছে। ইয়ামাল ও এমবাপের সঙ্গে তালিকায় আছেন হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলের মতো তারকারাও।
মুভিস্টারের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কেই এটি দেব। কাকে দেওয়া হবে? সেটি নিয়ে অনেক দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সম্ভবত আমরা দুজন।’
এরপর নিজের দাবিটা আরও পরিষ্কার করে দেন বার্সেলোনার এই তারকা। ইয়ামালের ভাষায়, ‘আমি মনে করি, এ বছর আমারই এটি প্রাপ্য- আমি যা যা জিতেছি, তার কারণে। আমার কাছে এমবাপে এবং আমি বিশ্বের সেরা। এটা আমার কাছে পরিষ্কার। যারা ম্যাচ দেখে, তারা সবাই সেটা জানে।’
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের এমন আত্মবিশ্বাস অবশ্য তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়েছে। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে জয় দিয়ে ইউরোপীয় অভিযানও শুরু করেছে তারা। ছয় ম্যাচে ইয়ামালের সাত গোল তার ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
তবে বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে এতটা সন্তুষ্ট নন ইয়ামাল। স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যক্তিগতভাবে আরও ভালো করতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বকাপের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার পরও আমি খুশি ছিলাম না। অবশ্যই চোট নিয়ে টুর্নামেন্টে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেটার সঙ্গে বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘চোট না থাকলেও আমি একইভাবে পারফর্ম করতে পারতাম। তবে এমন অনেক কিছু আমি করেছি, যা মানুষ দেখেনি। উদাহরণ হিসেবে বলব, একজন কোচের জন্য এমন একজন খেলোয়াড় থাকা অবিশ্বাস্য, যে একই সঙ্গে তিনজন প্রতিপক্ষকে নিজের সঙ্গে টেনে নিতে পারে।’
তারপরও নিজের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট ইয়ামাল। তার মতে, অন্য কোনো খেলোয়াড় তার মতো পারফর্ম করলে সেটিকে দুর্দান্ত বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে প্রত্যাশাটা আরও বেশি।
‘নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি ছিলাম না। আমি জানি, আমার পর্যায়ের আরেকজন খেলোয়াড় এমন পারফরম্যান্স করলে সবাই বলত সে দারুণ বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আমি আরও বেশি কিছু করতে পারতাম। আমি দলকে সাহায্য করেছি, তবে পরের বিশ্বকাপের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।
ইয়ামালের সাম্প্রতিক মন্তব্য অবশ্য গত সপ্তাহের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তখন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য কারও কাছে ‘ভিক্ষা’ করবেন না। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সকেই নিজের পক্ষে কথা বলাতে চেয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ব্যালন ডি’অরের লড়াই জমিয়ে তুলেছেন এমবাপ্পেও। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা সম্প্রতি নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। ফলে ২৬ অক্টোবরের পুরস্কার ঘোষণার আগে ইয়ামাল ও এমবাপ্পের লড়াই নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।
আইএইচএস/


