অ্যাটর্নি জেনারেল-বিচারপতিদের নিরাপত্তা আগের মতোই বহাল
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে ওই পরিপত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমানোর বিধানের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর মুহাম্মদ আজমী।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর মুহাম্মদ আজমী জানান, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা পরিপত্রটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না এবং কেন এর কার্যকারিতা স্থগিত করে আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আগের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ১০ জন আইনজীবী ও আইনের শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিটটি করেন।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
আবেদনে বলা হয়, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ওই বছরের ৬ মার্চ এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৯ মার্চ ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে পরিপত্র জারি করা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে।
আবেদনে পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত, সেটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা এবং পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এফএইচ/ইএ




