শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেন
টানা দরপতনের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে টানা দরপতনের প্রেক্ষিতে সোমবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়।
এ পরিস্থিতিতে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে।
লেনদেনের শুরুতে দেখা দেওয়া এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭৪টি কোম্পানিরই শেয়ার দাম বেড়েছে। বি গ্রুপের কোন কোম্পানির শেয়ার দাম কমেনি।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১টির এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও তলানিতে শেয়ারবাজার, দরপতন চলছেই
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, এনভয় টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬১টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস

