বিদেশি বিনিয়োগের কারখানায় শুল্ক জটিলতা, উৎপাদন বন্ধ ১৬ মাস
পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) স্থাপিত এসপিএস এগ্রোটেক লিমিটেড পড়েছে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতায়। বিদেশি বিনিয়োগের এ কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, যা বহাল রয়েছে প্রায় ১৬ মাস ধরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে ‘ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল’ বা ধানের তুষ থেকে তেল উৎপাদন শুরুর পরই রপ্তানি শুল্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এরপর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এখন কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু বিনিয়োগকারীই নন, সেই সঙ্গে ৩৫০ জন শ্রমিক, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসপিএস এগ্রোটেকের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। তার দাবি, কারখানায় বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কারখানাটি চালু ও রপ্তানির সুযোগ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে এসপিএস এগ্রোটেক। সম্প্রতি দেওয়া এই আবেদনে ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?
চুক্তির সময় ছিল না শুল্ক
অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি সম্পাদনের সময় ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে কোনো শুল্ক ছিল না। সেই হিসাবেই বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের পর ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল উৎপাদন শুরু হয়। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ার পর ১৭ এপ্রিল কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অপরিশোধিত ও পরিশোধিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফে ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে গত ৮ জুন জারি করা এসআরও নম্বর-১৭৭ অনুযায়ী এ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসপিএস এগ্রোটেকের দাবি, এসব শুল্ক ইপিজেডের বাইরের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও ইপিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেটিই মূল জটিলতা।
দেড় বছরেও সমাধান হয়নি
শুল্ক জটিলতা সমাধানে বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ালেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ইপিজেডে উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত কি না, তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজা দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে সমাধান করবে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সভা হয়। সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এর তিন মাস পর ৮ এপ্রিল এনবিআর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে অনুরোধ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৯ জুলাই সুস্পষ্ট মতামতসহ একই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুনরায় চিঠি দেয়। তবে এতসব প্রক্রিয়ার পরও কারখানাটি চালু হয়নি।
অর্থাৎ, কারখানা বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা ও পত্র যোগাযোগ হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির।
ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে এসপিএস এগ্রোটেক উল্লেখ করেছে, কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদনের বাইরে থাকায় বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। ধানের ৭ থেকে ৮ শতাংশ হিসাবে বছরে ৩২ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন তুষ পাওয়া যায়। কারখানাটিতে বছরে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন তুষ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের মোট উৎপাদিত তুষের ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ। ফলে তাদের কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে তুষ ব্যবহারের কারণে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হবে না বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এসপিএস এগ্রোটেকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শুধু ওই কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, এর সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও দেশের শিল্পোন্নয়নের বিষয়ও জড়িত।
তাই ইপিজেডভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও ইপিজেডের নীতিগত সুবিধার আলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করে কারখানাটি পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
‘কেন এমন পরিস্থিতি হলো, সেটিই বোধগম্য নয়’
এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। ভারতীয় এই বিনিয়োগকারী জাগো নিউজকে বলেন, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বিশ্বের যে কোনো দেশে আইন-কানুন মেনে বিনিয়োগ করার পর তার কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, একই সঙ্গে দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়-কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
‘আমাদের কারখানায় প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সরকারের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের সুযোগও বন্ধ হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটিই আমার বোধগম্য নয়,’ যোগ করেন প্রদীপ্ত মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘কোনো দেশে যখন বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তখন ওই দেশই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। আমার ৪৫ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় আমি এটিই শিখেছি।’
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিনিয়োগকারী জানান, নিচে কী হচ্ছে বা কী ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে এসব বিষয় ওপরের মহলে সঠিকভাবে যাচ্ছে না। ফলে সঠিক সিদ্ধান্তও আসছে না।
বিনিয়োগ করে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায়
নিজের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, ‘আমি বড় কোনো বিনিয়োগকারী নই, মধ্যম শ্রেণির একজন বিনিয়োগকারী। জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এখানে বিনিয়োগ করেছি। ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।’
‘আদালতের আদেশও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে। এই কারখানায় বিনিয়োগ করে আমি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় চলে গেছি,’ বলেন তিনি।
প্রদীপ্ত মজুমদার জানান, কারখানায় প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় তা নষ্ট হচ্ছে, পোকায় খেয়ে ফেলছে। কিছু তেলও পড়ে আছে। কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন, তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেপজা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এমনকি মুখ্য সচিবের কাছেও গেছেন। সবাই শুধু বলছেন- ‘হবে, দেখছি, করছি’। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাননি। কোনো ক্লিয়ারেন্সও পাননি। কারখানা বন্ধ, তার সর্বস্ব শেষ হওয়ার পথে।
ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।- স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার
৯৯ শতাংশই বাংলাদেশি শ্রমিক
বিদেশি বিনিয়োগের সুফল তুলে ধরে এসপিএস এগ্রোটেকের এই স্বত্বাধিকারী বলেন, তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশই বাংলাদেশি। বিদেশি কর্মী ছিলেন মাত্র দুজনের মতো। কারখানাটি বন্ধ থাকায় ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও বন্ধ রয়েছে।
প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, সবকিছু মিলিয়ে তার সামনে এখন একটাই পথ, তা হলো কারখানাটি চালু করা। এটি চালু করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তা না হলে তিনি রাস্তায় বসে যাবেন। তবে তিনি বসে যাওয়ার আগে এই দেশের ক্ষতিটাই হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন অভিজ্ঞতার কথা জানলে বিদেশি অন্য বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।
কারখানা বন্ধের জন্য সরাসরি এনবিআরকে দায়ী করেছেন এই বিনিয়োগকারী। তিনি বলেন, শুধু ‘এনবিআরের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই, বিষয়টি মূলত মানসিকতার।’
দূতাবাসেও যোগাযোগ, সমাধান হয়নি
বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, বিনিয়োগের সময় দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বাংলাদেশে এসেছেন। সমস্যা তৈরির পরও কয়েকবার দূতাবাসে গেছেন এবং কয়েকটি চিঠি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দূতাবাস থেকেও বলা হয়েছে- ‘আমরা দেখছি, হচ্ছে’। কিন্তু দূতাবাসের দেওয়া তথ্য বা বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে শুনছে না।
বেপজার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, বেপজা তাদের অনেক সহযোগিতা করছে এবং তাদের পক্ষেই রয়েছে। কিন্তু বেপজা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
আর কেউ যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হোন
দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় নিজের ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রদীপ্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, জীবনে আর কোনো বিনিয়োগকারী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হোন।’
তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ যে কোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং শিল্পায়নের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই দ্রুত কারখানাটি চালুর সুযোগ তৈরি করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা উচিত।
এমএএস/একিউএফ/এমএফএ





