ডিবি পরিচয়ে যুবককে অপহরণ-অর্থ আদায়ের অভিযোগ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নয়ন মিয়া (২৪) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি, অর্থ আদায় ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম...

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নয়ন মিয়া (২৪) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি, অর্থ আদায় ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

জানা গেছে, নয়ন মিয়া বগুড়ার মোকাতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের পোড়াদহ (স্বর্ণগ্রাম) এলাকার দবির হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকার মৃত রজ্জব আলীর ছেলে মাহাবুর রহমান (৫২), আলীপুর এলাকার একরাম রবিদাসের ছেলে দিলীপ চন্দ্র দাস (৪০) ও জরিপপুর (জঙ্গলমারা) এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লুটু মিয়া (৫৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জঙ্গলমারা থেকে জরিপপুর আসার পথে নয়ন মিয়াকে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে তাকে ফুলপুকুরিয়া বাজারে মাহাবুরের দোকানের ভেতরে বেঁধে রাখে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে লুটু মিয়া জিম্মি নয়নের শ্বশুর জুয়েলকে কল করে ডিবি জয়পুরহাট পরিচয় দিয়ে তার জামাইকে মাদকসহ আটকের কথা বলে। তাকে ছাড়াতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। ঘণ্টাখানেক পর তিনি ৩০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে স্থানীয় তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে পানিতলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ডিবি পরিচয়দানকারী ওই নম্বরে কল করলে তাদের ফুলপুকুরিয়া বাজারে যেতে বলা হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে তারা ফুলপুকুরিয়া বাজারে গিয়ে মাদরাসা সংলগ্ন নয়নকে দেখতে পায়। তখন মাহাবুরের হাতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। টাকা কম দেওয়ায় মাহাবুর, দিলীপ, লুটুসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি মিলে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করে এবং নয়নকে ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় নয়ন মিয়াকে উদ্ধার করে।

জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার পেয়ে নয়ন মিয়া বলেন, সন্ধ্যার দিকে দুইজন লোক আমার পথরোধ করে দাঁড়ায়। আমাকে চড়-থাপ্পড় মেরে অন্যত্র নিয়ে যায়। আমার কাছে মোটরসাইকেল ও ফোন ছিল, সেগুলো ওরা নিয়ে যায়। সেখানে ৩ থেকে ৪ জন লোক এসে আমাকে মারধর করে। এরপর ফুলপুকুরিয়া-জরিপপুর রাস্তার মাঝামাঝি কলার জমিতে নিয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাড়িতে ফোন দিয়ে টাকা আনতে বলে। তখন আমার মাকে কল দিলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে ইয়াবা পাওয়ার কথা স্বীকার করতে বাধ্য করে। আমার সামনে মাহাবুর, দিলীপ ও লুটু মিলে র‍্যাব-ডিবি পুলিশ সেজে ফোনে কথা বলে। পরে তারা আমাকে মাহাবুরের দোকানে নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আনোয়ার আল শামীম/এনএইচআর 

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1157678
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World