অফিসে আপনার ডেস্ক, আপনার রুচির পরিচয়

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান অফিসের ডেস্ক। প্রতিদিন যেখানে বসে কম করে হলেও আট ঘণ্টা কাজ করি। দিনের একটা বড় সময় কেটে যায় এই ছোট্ট জায়গাটিতে। কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় ডেস্কটি কেমন আছে, গোছানো নাকি অগোছালো সেদিকে আলাদা করে নজর দেওয়ার সুযোগ হয় না। অথচ একটু সচেতন হলেই এই ডেস্কটিই হয়ে উঠতে পা...

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

অফিসের ডেস্ক। প্রতিদিন যেখানে বসে কম করে হলেও আট ঘণ্টা কাজ করি। দিনের একটা বড় সময় কেটে যায় এই ছোট্ট জায়গাটিতে। কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় ডেস্কটি কেমন আছে, গোছানো নাকি অগোছালো সেদিকে আলাদা করে নজর দেওয়ার সুযোগ হয় না। অথচ একটু সচেতন হলেই এই ডেস্কটিই হয়ে উঠতে পারে সুন্দর, পরিপাটি ও স্বস্তিদায়ক।

একটি পরিচ্ছন্ন ডেস্ক শুধু দেখতে ভালো লাগে না, কাজের পরিবেশকেও আনন্দদায়ক করে তোলে। নিজের কাজের জায়গাটিকে একটু সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলে সেখানে বসে কাজ করতেও ভালো লাগে। একই সঙ্গে সহকর্মী কিংবা অফিসে আসা অতিথির কাছেও আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্বের একটি ধারণা তৈরি হয়।

তাই খুব বেশি খরচ না করেও কীভাবে অফিসের ডেস্কটিকে সুন্দর ও গোছানো রাখা যায়, সেটি নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

১. ডেস্ককে যতটা সম্ভব পেপারলেস রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া ডেস্কে কাগজের স্তূপ জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। বিশেষ করে যেসব কাজ অনলাইনে করা সম্ভব, সেগুলো ই-অ্যাপ্রুভালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে। আমাদের অফিসে এ ধরনের ব্যবস্থা আরও সহজ করতে ক্লডের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তাকে বললে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি পোর্টাল তৈরি করে দেওয়া সম্ভব। এতে কাগজের ব্যবহার কমার পাশাপাশি ডেস্কটিও থাকবে পরিচ্ছন্ন।

২. পানির জন্য একটি কাচের বোতল রাখতে পারেন। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে সুন্দর একটি কাচের বোতল ডেস্কের সৌন্দর্যও বাড়ায়। একই সঙ্গে কফি বা চায়ের মগটিও হতে পারে একটু ফ্যাশনেবল। খুব দামি কিছু হওয়ার প্রয়োজন নেই; নিজের পছন্দের একটি সুন্দর মগই যথেষ্ট।

পানির জন্য একটি কাচের বোতল রাখতে পারেন। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে সুন্দর একটি কাচের বোতল ডেস্কের সৌন্দর্যও বাড়ায়৩. ডেস্কে একটি ছোট গাছ রাখতে পারেন। যেমন মানিপ্ল্যান্ট। ছোট একটি টবে রাখা এই গাছ ডেস্কের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। এর জন্য বড় জায়গারও প্রয়োজন নেই। এমন গাছ বেছে নেওয়া ভালো, যার যত্ন নেওয়া সহজ এবং অফিসের পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।

৪. ডেস্কের দেয়ালকে অপ্রয়োজনীয় স্টিকি নোটে ভরিয়ে না ফেলাই ভালো। অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য মনে রাখার জন্য স্টিকি নোটের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একান্ত প্রয়োজন না হলে দেয়ালে একের পর এক নোট ঝুলিয়ে রাখলে পুরো জায়গাটিই অগোছালো দেখায়। প্রয়োজনীয় নোটগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।

৫. কলম রাখার জন্য একটি সুন্দর কলমদানি ব্যবহার করুন। যাদের প্রতিদিন অনেক সই-স্বাক্ষর করতে হয়, তাদের ডেস্কে কয়েকটি কলম থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন রঙের কলমও রাখা যেতে পারে। তবে আমার মতো যারা কাজের তালিকা, ছোটখাটো হিসাব কিংবা টুকিটাকি বিষয় কাগজে লিখে রাখেন, তাদের ডেস্কে কলম ও কাগজের ব্যবহার একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক!

তবে সেখানেও একটি নিয়ম মানা যায় কাজ শেষ হয়ে গেলে অপ্রয়োজনীয় কাগজগুলো সরিয়ে ফেলুন। ডেস্কে পুরোনো নোট, ব্যবহৃত কাগজ কিংবা প্রয়োজন শেষ হয়ে যাওয়া ফাইল জমিয়ে রাখার কোনো দরকার নেই।

৬. একটি সুন্দর ডেস্ক ম্যাট বা ডেস্ক প্যাড রাখতে পারেন। বিশেষ করে সেটি যদি একটু রঙিন ও রুচিশীল হয়, তাহলে পুরো ডেস্কের চেহারাই বদলে যেতে পারে। ডেস্ক ম্যাট কাজের জায়গাকে যেমন গোছানো রাখে, তেমনি ডেস্কের সৌন্দর্যও বাড়ায়।
তবে ডেস্ক সাজানোর সময় একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সুন্দর মানেই অনেক কিছু দিয়ে ডেস্ক ভরে ফেলা নয়। বরং কম জিনিস, কিন্তু প্রয়োজনীয় ও রুচিশীল জিনিস এই নীতিটিই হতে পারে ভালো ডেস্ক সাজানোর মূলমন্ত্র।

একটি ডেস্কে অনেক ধরনের জিনিস থাকতে পারে। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, কিবোর্ড, মাউস, নোটবুক, কলম, পানির বোতল, মগ কিংবা ছোট একটি গাছ। কিন্তু প্রতিটি জিনিসের জন্য যদি নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, তাহলে ছোট ডেস্কও অনেক বেশি সুন্দর ও পরিপাটি দেখায়।

আরেকটি বিষয় হলো, দিনের শেষে ডেস্কটি একবার গুছিয়ে নেওয়া। এতে পরদিন সকালে কাজে বসার সময় অগোছালো পরিবেশ দেখতে হয় না। মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে কাগজপত্র সরিয়ে রাখা, কলম নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখলেই পরদিনের কাজের শুরুটা হতে পারে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

মনে রাখবেন, আপনার ডেস্ক আপনার ব্যক্তিত্বেরও একটি ছোট্ট প্রতিচ্ছবি। আপনার ডেস্ক দেখেই আপনার সম্পর্কে সবকিছু জানা সম্ভব নয়, কিন্তু আপনার রুচি, পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো স্বভাব সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারেন অনেকে।

সুন্দর ও পরিপাটি ডেস্ক শুধু অন্যের কাছে আপনার সুরুচির পরিচয় দেয় না, নিজের কাছেও নিজের কাজের জায়গাটিকে আরও আপন করে তোলে। দিনের বড় একটি সময় যে জায়গায় কাটছে, সেই জায়গাটিকে একটু সুন্দর রাখার দায়িত্ব তাই আমাদের নিজেদেরই।

খুব বেশি অর্থ খরচ করারও প্রয়োজন নেই। একটু পরিচ্ছন্নতা, কিছুটা পরিকল্পনা এবং নিজের রুচির সামান্য ছোঁয়াই যথেষ্ট। আপনার ডেস্ক সুন্দর হোক, গোছানো হোক। আপনার কর্মদিবসও হোক আরও আনন্দময়।

কেএসকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/feature/article/1157723
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Economy