সরকারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
শরীয়তপুরের জাজিরায় সরকারি বরাদ্দে স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে কয়েকটি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিকেনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস্কানদার ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ল্যাট্রিন দেওয়ার আশ্বাসে কারও কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এসব ল্যাট্রিন পেতে নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, যা চূড়ান্ত তালিকা শেষে দিতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। এদিকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে স্যানেটারি ল্যাট্রিন বিতরণের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। জাজিরা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০০টি। যা প্রত্যেক ইউনিয়ন ভেদে পাবে ৫০টি। ইতোমধ্যে স্যানেটারি ল্যাট্রিন বিতরণে দপ্তরটি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের একটি খসড়া তালিকা চাওয়া হয়েছে। যা যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীরা পাঁচ হাজার টাকার সরকারি চালানে ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে এসব স্যানেটারি ল্যাট্রিন পাবে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্যানেটারি ল্যাট্রিন বিতরণের জন্য ৩৫ জনের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেন বিকেনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া। ওই তালিকার বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে স্যানেটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার আগেই সাড়ে ছয় হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বাবুল নামে এক ব্যক্তি বলেন, চেয়ারম্যান বলেছে আমাকে ল্যাট্রিন দিবে তাই তালিকায় আমার নাম দেওয়া হয়েছে। ল্যাট্রিনের জন্য আমার কাছ থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে। অনেকদিন হয়ে গেছে, কিন্তু আমি এখনো ল্যাট্রিন পাইনি।
খসড়া তালিকাভুক্ত আরেক ভুক্তভোগী সকিনা বলেন, স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যানের লোক খোকন হাওলাদার আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এখনো ল্যাট্রিন পাইনি।
এদিকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করেন ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের এক নারী সদস্য। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া ১২ হাজার করে টাকা দাবি করেছেন। আমার কয়েকজন পরিচিত অসহায় পরিবারের লোকদের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করলে ১০ হাজার করে টাকা সংগ্রহ করে দিতে বলেন। ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলে তিনি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করে দিবেন, আর নয়তো দিবেন না। পরে আমি দুজনের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা এনে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি।
যদিও টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কান্দার ভুঁইয়া। তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ‘সরকারিভাবে পুরো উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ৬০০ স্যানিটারি ল্যাট্রিন বিতরণের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা খসড়া তালিকা আমাদের দিয়েছেন। তা এখন যাচাই বাছাই করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়নি। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর প্রত্যেক পরিবারকে সরকারি ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বিকেনগরের ইউপি চেয়ারম্যানের টাকা সংগ্রহের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এব্যাপারে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। তবে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। ভুক্তভোগীরা চাইলে নাম প্রকাশ ছাড়াও অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
বিধান মজুমদার অনি/কেজে/এএসএম
