গাছ বনসাই করা কি পরিবেশবান্ধব না ক্ষতিকর?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দেখেন শক্ত কাণ্ডযুক্ত একটি গাছকে বিভিন্ন কৌশলে ছাঁটাই করে পাত্রের মধ্যে ছোট করে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। এই পদ্ধতি দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন, একটি গাছ স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত করে ছোট করে রাখা হচ্ছে, উদ্ভিদের সঙ্গে এই কাজটি করা কি ঠিক হচ্ছে? এটা...

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দেখেন শক্ত কাণ্ডযুক্ত একটি গাছকে বিভিন্ন কৌশলে ছাঁটাই করে পাত্রের মধ্যে ছোট করে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। এই পদ্ধতি দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন, একটি গাছ স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত করে ছোট করে রাখা হচ্ছে, উদ্ভিদের সঙ্গে এই কাজটি করা কি ঠিক হচ্ছে? এটা কি পরিবেশবান্ধব?

তবে বাস্তবতা হচ্ছে বনসাই হচ্ছে একটি শিল্প। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে সীমিত আকারে এর দেখে মিললেও পৃথিবীতে হাজার বছর আগে থেকেই বিভিন্ন দেশে গাছ বনসাই করা হচ্ছে। যা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করছে না।

অনেকেই মনে করেন বনসাই হচ্ছে আলাদা প্রকৃতির কোনো গাছ। তবে সত্যতা হচ্ছে এটি কোনো ভিন্ন গাছ নয়। সাধারণ গাছকে ধীরে ধীরে ছাঁটাই ও কৌশলে পাত্রের মধ্যে ছোট করে রাখা হয়। এসব গাছের নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। ডালপালা ও শেকড় ছোট করে রাখতে হয়। অনেকেই বিভিন্ন তারের মাধ্যমে গাছের আকৃতি পছন্দ করে সাজিয়ে নেন। একটি গাছকে বনসাই করে পরিপূর্ণ রূপ দিতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়।

বনসাই নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের দেশে কিছু উদ্ভিদ আছে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য। আর কিছু আছে ফলদ, বনজ ও ঔষধি। এরমধ্যে থেকে কিছু গাছকে আমরা পাত্রে ছোট করে রাখি যাতে ঘরের ভেতরে রাখা যায়। যেমন বটগাছকে যদি আমরা বনসাই না করি, তাহলে তো এটাকে ঘরে রাখা যাবে না। এজন্য শক্ত কাণ্ডযুক্ত গাছকে বনসাই করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘গাছকে বনসাই করলে ক্ষতির কিছু নেই। আর আমাদের দেশে এমন নই যে গাছের চারার অভাব আছে, বনসাই করলে চারা কমে যাবে। যারা বনসাই নিয়ে কাজ করছেন, এটা ভালো উদ্যোগ। এটা ব্যাপক হলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বনসাইয়ের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু নেই। এটি পরিবেশবান্ধব, একটি শিল্প।’

গাছ বনসাইয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিরা জানান, শক্ত কাণ্ড রয়েছে এমন গাছের খর্বাকৃতি করার শিল্পকে ‘বনসাই’ বলে। যেসব গাছের শক্ত কাণ্ড রয়েছে, এসব গাছ বনসাইয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। বিশেষ করে বট, বকুল, শিমুল, জাম, নিম, তেঁতুল, বেল, ছাতিম, গাব, হিজল, শিরিষ, অর্জুন, বাবলা, কড়ইসহ বেশকিছু গাছ বনসাই করা হয়।

বনসাই চাষের জন্য আবহাওয়া অনুযায়ী উর্বর মাটি খুবই প্রয়োজন। তবে দো-আঁশ মাটি হলে ভালো হয়। পাত্রে গাছ রাখার সময় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সার ও পরবর্তীতে নিয়ম মেনে সার ও কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। একই সঙ্গে পরিমাণ মতো পানি দিতে হয়। গাছের আকার অনুযায়ী ১-৩ বছরের মধ্যে পাত্রে প্রতিস্থাপন করতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনসাই গাছের ডালপালা ছাঁটাই করার জন্য অবশ্যই এই বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। অভিজ্ঞতা ছাড়া গাছের ডাল ছাঁটাই করলে গাছের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বনসাই গাছ ঘরের ভেতর, বারান্দা ও ছাঁদে রাখা যায়। তবে এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর।

তথ্য বলছে, প্রাচীন চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানি ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। বনসাই করতে ব্যবহৃত ট্রের মতো যে পাত্র ব্যবহার করা হয় তাকেই সাধারণভাবে ‘বন’ বলা হয়। খর্বাকৃতি গাছ বলতে ‘বনসাই’ বোঝায়।

বিভিন্ন সময়ে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে ভিন্ন আকারে এর চর্চা বিস্তার লাভ করে। চৈনিক ছং রাজবংশের সময় জাপানে পাত্রে উৎপাদিত গাছের জনপ্রিয়তা পায় সারা বিশ্বে।

তানভীর অ্যান্ড হবিজ পেজের পরিচালক তানভীর মেহেদী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছোট পাত্রে বড় গাছের রূপ দেওয়ার বিষয়টি একটি প্রাচীন জাপানি শিল্প। আমি প্রায় ছয় বছর ধরে বনসাইয়ের কাজ শুরু করেছি। আমাদের দেশে এখনো এটা খুব বেশি মানুষ জানে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বুঝে গাছ ছোট করলে ক্ষতি হয় না বরং সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তা সাধারণ মানুষ বোঝে না। আমি যে গাছ বনসাই করি তা সাধারণত বিভিন্ন ভবনের মধ্যে পরিত্যক্ত হিসেবে থাকে। সেখান থেকে এনে বনসাই করছি আমার ছাদে। গাছকে ছোট পাত্রে রেখে বড় করতে প্রচুর ধৈর্য ও সঠিক নিয়ম কানুন জানার প্রয়োজন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বনসাই গাছ বিক্রির জন্য নয়; নিজের শখের বশে এই শিল্প করে থাকি। আমার কাছে কিছু বনসাই গাছ আছে। একটি বনসাই প্রাকৃতিক আকৃতি ফুটে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগে। এমনও হতে পারে বনসাই গাছে পরিপূর্ণ আকৃতি পেতে হলে আমার পরবর্তী প্রজন্ম, আমার ছেলেমেয়েদেরও কাজ চালিয়ে যাওয়া লাগতে পারে।’

বনসাই পৃথিবীর কোথাও ব্যাপকভাবে নেই বলে জানান সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রানা রয়।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে হয়তো কয়েকজন এটা চর্চা করছেন মাত্র। যারা বনসাই করছেন তারা বেশিরভাগ ছাদের ওপর করছেন। কেউ চাইলেই তো আর ছাদের ওপর বড়গাছ লাগাতে পারবেন না বা গাছ বড় হতে দেবেন না। বনসাইয়ের মাধ্যমে কেউ যদি ছাদে, ঘরের আঙিনা বা অন্য কোথাও গাছ লাগান; তাও ভালো দিক। কারণ একেবারে গাছ না লাগানোর চেয়ে বনসাই করে হলেও কয়েকটি গাছ লাগানো হচ্ছে।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘বনসাই এমন জায়গায় না করাই ভালো যেখানে গাছ রোপণের পর বড় হবে। আমি বনসাইয়ের ভালো দিকটাই দেখবো। বনসাইয়ের কারণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি নেই। এই শিল্প এগিয়ে যাবে, এটাই প্রত্যাশা করি।’

এসআর/এএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/feature/article/1157897
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Environment