পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো ধরনের সীমান্ত-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ভিত্তি নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন নামে যে কাঠামো চালু করা হয়...

পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো ধরনের সীমান্ত-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ভিত্তি নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন নামে যে কাঠামো চালু করা হয়েছে, ভারত তা মেনে নিচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের এই উদ্যোগ ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এসব ভূখণ্ড নিয়ে অন্য কোনো দেশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব এলাকায় পাকিস্তানের কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতায় যাওয়ার অধিকার নেই।

ভারত বিশেষভাবে ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান ও চীনের শিনজিয়াংয়ের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভারত দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ বলে আসছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের অবস্থান পরিবর্তন বা সেখানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর প্রভাব ফেলে।

কী বলেছে পাকিস্তান?

এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পাকিস্তান জানিয়েছে, এই কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

অর্থাৎ ইসলামাবাদ এই উদ্যোগকে মূলত পাকিস্তান-চীন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি বলছে, ভারতীয় ভূখণ্ডকে ঘিরে এমন কোনো উদ্যোগের আইনি বৈধতা তারা স্বীকার করে না।

পুরোনো বিরোধে নতুন মাত্রা

পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে ভারতের আপত্তি নতুন নয়। এর আগে চীন-পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ ওঠার পরও ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কোনো তৃতীয় দেশের মন্তব্য বা চুক্তি ভারতের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে না।

ফলে নতুন সীমান্ত কমিশনকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনের ভূমিকাও আবার আলোচনায় এসেছে। একদিকে পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে ভারত স্পষ্ট করেছে যে ভারতীয় দাবিকৃত ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা তারা স্বীকার করবে না।

এই অবস্থায় পাকিস্তান-চীন সীমান্ত সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধে আরও একটি কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1158021
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World