সার মজুত রাখার অভিযোগ, বিএনপি নেতার গুদামে কৃষকদের হামলা
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার গুদামে রেখে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও সার ডিলার শফিউর রহমানের গুদামে হামলা চালিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজীবপুর বাজারে শফি এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গুদামে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।
শফিউর রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, শফিউর রহমানের গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিল। সকালে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের জন্য স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা গুদামের তালা ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার বিতরণ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সার পাওয়ার আশায় তারা রাত ৩টা থেকে বিভিন্ন ডিলারের দোকান ও গুদামের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে সার পাননি। তাদের দাবি, অন্য ডিলারদের তুলনায় শফিউর রহমানের গুদামে বেশি সার মজুত থাকলেও তা আটকে রাখা হয়েছিল।
কৃষক মফিজুল হক ও আবদুল হাকিম বলেন, তারা রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির জন্য শফিউর রহমান কৃত্রিম সংকট তৈরি করছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিউর রহমান। তিনি বলেন, ওই দিন বিতরণের জন্য তার গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিল। এর চেয়ে কয়েকশ বেশি কৃষক সেখানে ভিড় করেন। ভিড় সামলানো ও বিতরণের সুবিধার জন্য পাশের বাড়ি থেকে কৃষকদের স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে জানানো হয়েছিল।
শফিউর রহমানের দাবি, কিছু ব্যক্তি স্লিপধারী কৃষকদের গুদাম থেকে সার নিতে বাধা দেন। তাদের সার না দিলে স্লিপধারী কৃষকদেরও সার দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে গুদামে হামলা চালিয়ে সার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
হামলার সময় উসকানিদাতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শফিউর রহমান। তার দাবি, তাদের আবাদি জমি না থাকলেও তারা সারের জন্য ভিড়ের মধ্যে ঢুকেছিলেন।
এদিকে রাজীবপুরের আরেক সার ডিলার আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামের সার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
আবদুল হাই জানান, তিনি সরকারি বরাদ্দের বাইরে চট্টগ্রাম থেকে বেশি দামে সার কিনে এনেছেন। তাই ওই সারের দাম বেশি। তবে সরকারি বরাদ্দের সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামেই বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, আবদুল হাইয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে সার কিনে আনার কথা জানিয়েছেন।
সরকারি বরাদ্দের সার গুদামে রেখে বাইরে থেকে কেনা সার বেশি দামে বিক্রি করা আইনবহির্ভূত কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আইনবহির্ভূত। তার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, রাজীবপুরে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হয়েছে। সার ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে


